Blog Archive

Saturday, February 28, 2026

Love India - Swami VIVEKANANDA

স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো" আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


 স্বামী বিবেকানন্দের এক অসাধারণ উত্তর - "আমাকে খুশি করতে চাইলে ভারতবর্ষকে ভালোবাসো।" 

এখন আমাদের ভারতবর্ষ সম্পর্কে একটু জানা দরকার। ভারতবর্ষ একটা দেশ, কিন্তু দুটি নাম। 

Article 1(1) of the Indian Constitution, "India, that is Bharat, shall be a Union of States" 

একটাই দেশ, কিন্তু দুটি নাম। 

স্বামী বিবেকানন্দ যখন বললেন - "Love India." 

আমরা তখন অনুভব করলাম - 'ভারতকে ভালোবাসো।' আমরা দুটো নামের উল্লেখ করলাম। 

India, that is Bharat. 

কিন্তু স্বামীজি কি সত্যি সত্যি এই geographical land ভৌগলিক ভূমি, তার সম্বন্ধে বললেন! 
সেটাই প্রশ্ন। 

আমরা এখন দেখবো হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন scripture ধর্মশাস্ত্রে আর এক নাম আমরা পাই 'জম্বুদ্বীপ' Jambudvipa. 

পুরাণে যে সাতটি মহাদেশের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে 'জম্বুদ্বীপ' একটি। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি 'জম্বুদ্বীপ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 

বিষ্ণু পুরাণে এসে সেই জম্বুদ্বীপ হয়ে গেল 'ভারত'। 

এই বিষ্ণু পুরাণে ভারতের সীমা সম্পর্কে বলছে-

 উত্তরং যৎ সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্। 
বর্ষং তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ।। 


(অর্থ - সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে যে দেশ অবস্থিত, তাকে 'ভারতবর্ষ' বলা হয়। সেখানে ভরত রাজার সন্তানরা বসবাস করেন।)

 মহা সমুদ্রের উত্তরে‌ যে স্থান ও হিমালয়ের দক্ষিণে যে স্থান - সেটাই ভারতবর্ষ। সেখানে যারা থাকেন, তাদের বলা হয় ভারতী। 

ভারত নাম এল কি করে! 
এ‌ সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়। 

এক জায়গায় বলছে আরবি মশলাকে বলত - বাহারাত (Baharat)। এই মশলার জন্য আরবিরা ভারতবর্ষে আসত। সেই 'বরহা' অর্থাৎ মশলা থেকেই ধিরে ধিরে ভারত নাম এসেছে, মনে করা হয়। [আরবি শব্দ Bahārāt (بهارات) হলো bahār (মশলা) শব্দের বহুবচন। 

এর মূল সংস্কৃত শব্দ 'ভারত'(Bharat) থেকে এসেছে, যা দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সুগন্ধি বা মশলা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিল।] 

ঋক বেদে আছে- ভারতবর্ষের লোকেরা 'battles of eighteen ' এ অংশ গ্রহণ করেছিল। [The Battle of the Ten Kings (Sanskrit: दाशराज्ञयुद्धम्, IAST: Dāśarājñá yuddhá)।] 

ভারতবর্ষের নাম আমরা খুব প্রাচীন ঋকবেদেও পাই। 
সংস্কৃতে 'ভার' (भार) শব্দের অর্থ ওজন। 
বর্ষ মানে portion of land. (অন্যান্য অর্থে 'বর্ষ' মানে বৎসর (Year) বা বৃষ্টি।) যে দেশের লোকেরা ভার বহন করে। 

কি ভার বহন করে! অগ্নির ভার। 
আমাদের দেশে অগ্নিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হত। অগ্নিকে খুব সন্মান করা হত। এই অগ্নির ভার যেখানের মানুষরা বহন করছে, সেই স্থানই ভারতবর্ষ। এখনও দক্ষিণ ভারতের কিছু পরিবারের নিয়ম আছে, যখন বিয়ে হয়, তখন বাড়িতে যে আগুন থাকে সেই আগুন থেকে নতুন স্বামী স্ত্রী দম্পতিকে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুন থেকে বিয়ের যজ্ঞের আগুন জ্বলে। সেই আগুন নিয়ে স্বামী স্ত্রীর নতুন সংসার শুরু করে। তখন সেই আগুন প্রজ্জ্বলিত রাখার দায়িত্ব তাদের। সে জন্য অগ্নি চয়ন ও তার রক্ষা গৃহস্থের কর্তব্য। সেই দম্পতির মধ্যে কেউ একজন মারা গেলে তখন গৃহে সংরক্ষিত আগুন থেকেই অগ্নি নিয়ে তার মুখাগ্নি করা হত। চিতাতেও আগুন দেওয়া হত। এভাবে আগুনকে সদা সর্বদা বহন করা হত।

 সেই replica প্রতিরূপ এখনও দেখা যায়। সব মন্দিরে এখনো সব সময় একটা দীপ বা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। আগুন আবিষ্কারের পর ভারতবর্ষের মানুষ তার সাহায্যে অত্যন্ত উন্নতি করে। সেই অগ্নির ভার বহন করা থেকেও ভারতবর্ষ নাম আসতে পারে। 

বায়ু পুরাণে বলা হয়েছে - যিনি ভারতবর্ষকে জয় করতে পারবেন, তাকেই সম্রাট আক্ষ্যা দেওয়া হবে। 
এভাবে দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত পুরনো গ্রন্থেও "ভারতবর্ষ" নাম পাওয়া যাচ্ছে। 

আর সবাই যেটা মেনে নিয়েছে, সেটা হল - রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র ভরতের থেকেই ভারতবর্ষ নাম এসেছে। 

রাজা দুষ্মন্ত ছিলেন ক্ষত্রিয়। আর শকুন্তলার বাবা ছিলেন ঋষি বিশ্বামিত্র ও মা ছিলেন অপ্সরা মেনকা। জন্মের পর তার বাবা মা তাকে রেখে চলে যান, পাখিরা তাকে রক্ষা করে।

 পাখি অর্থাৎ শকুনরা (শকুন কথার অর্থ পাখি। পরে সেটা একটি নির্দিষ্ট পাখি বোঝায়। ব্যুৎপত্তি: 'শকুন্ত' বা শকুন্তল (পাখি/শকুন জাতীয় পাখি) দ্বারা পালিত। শকুন্ত (পাখি) পাখিরা তাকে রক্ষা করে, তাই মহর্ষি কণ্ব নাম রাখেন 'শকুন্তলা'। এটি কোনো নির্দিষ্ট পাখির নাম নয়, বরং "পাখি দ্বারা পালিত" অর্থে ব্যুৎপন্ন একটি নাম, যা পরে ঋষি কণ্বের পালিতা কন্যা শকুন্তলা।) তাকে ডানা মেলে ছায়া দিয়ে রক্ষা করছিল। সে স্থান দিয়ে আরেক ঋষি যাওয়ার সময় শিশুটিকে তুলে নিয়ে যান এবং নাম দেন - শকুন্তলা। 

শকুন্তলা অত্যন্ত সুন্দরী ও অতি সুশীল কন্যা। পরবর্তী কালে তার রাজা দুষ্মন্তের সাথে বিবাহ হয়। দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র হলেন - ভরত। 


এই ভরত পিতা মাতা দুজনের থেকে অসাধারণ গুণ পেয়েছিলেন। ক্ষত্রিয় বাবার কাছ থেকে - বীরত্ব ও সেবা। মায়ের কাছ থেকে - পবিত্রতা ও ত্যাগ। ঋষিদের পবিত্রতা ও ত্যাগ এবং ক্ষত্রিয় রাজাদের বীরত্ব ও সেবা - এই দু ধরনের ভাবই রাজা ভরতের মধ্যে ছিল। 

স্বামী বিবেকানন্দ পরবর্তী কালে এই ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বললেন যে - ভারতের আদর্শ হচ্ছে, ত্যাগ ও সেবা। এ দুটিই আমরা ভরতের মধ্যে পাই।


 সংস্কৃতে ইন্দু মানে চাঁদ। এই চাঁদকে বলা হয় সোম বা অমৃত। এই দেশটি এত সুন্দর ও মধুর, সেজন্য 'ইন্ডিয়া' নামটি সেখান থেকে এসেছে। 

গ্রিকদের একটা শব্দ ছিল - ইভিয়া, যার অর্থ island, আইল্যান্ড। নদী ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী দেশ তাকে তারা বলতো আইল্যান্ড দ্বীপ । তাকে গ্রীক ভাষায় বলছে ইভিয়া। সেটাই ল্যাটিনে হয়ে যাচ্ছে - ইন্ডিয়া। (প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের বলত ইন্দোই (Ινδοί), বা 'ইন্দাস' (সিন্ধু) নদী অববাহিকার অধিবাসী। 'ইন্দাস' নাম থেকেই 'ইন্ডিয়া' নামটির উতপত্তি।) গ্রীক traveler হেরোডোটাস, তিনি এই ইন্ডিয়া ল্যান্ড শব্দটি ব্যবহার করেছেন, খুব পরিষ্কার ভাবে ভারতবর্ষ সম্পর্কে। 


ব্রিটিশ যখন ভারতে এল তখন কিং রাজা আলফ্রেড ইন্ডিয়া উল্লেখ করলেন, তখন থেকেই ভারতবর্ষের অফিসিয়াল নাম 'ইন্ডিয়া' হয়ে গেল। 

এই ইন্ডিয়া ও ভারতবর্ষের আরেকটি নাম আছে - হিন্দুস্তান। স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন এই হিন্দুস্তান শব্দটি কোথায় থেকে এল! পার্সিয়ানরা মশলা কেনার জন্য যখন এদিকে আসত, তখন তারা একটি নদী পার হত। তার নাম - সিন্ধু। সিন্ধুনদ যখন তারা পার হত, তখন সিন্ধু শব্দটি ঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারত না। তাদের ভাষায় 'স' হয়ে যেত 'হ'। ফলে সিন্ধু হয়ে যেত হিন্দু। ফলে স্থানটির নাম হয়ে গেল - হিন্দুস্থান।

 ভাষা হল - হিন্দুস্থানী। ধর্ম হয়ে গেল - হিন্দু ধর্ম। 
এই পার্সিয়ানদের থেকে এটা জনপ্রিয় হয়ে গেল। এভাবে ভারতবর্ষের আরেক নাম হল - হিন্দুস্থান। 

আমাদের এই অসাধারণ দেশের লোকেরা, নাগরিকেরা বিদেশে নিজেদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন - we are Indian's. আবার যখন দেশে পরিচয় দেয়, তখন বলে - ভারতবর্ষ। আর খুব যখন আনন্দ হয়, তখন শ্লোগান দেয় - "জয় হিন্দ"। 

এই যে 'ভারতবর্ষ', এই যে 'ইন্ডিয়া', এই যে 'হিন্দ' - স্বামী বিবেকানন্দ কি একেই নির্দেশ করছেন! 

মার্কিন বন্ধু এবং ভক্ত জোসেফিন ম্যাকলিওড (১৮৫৮-১৯৪৯), যখন স্বামীজিকে জিজ্ঞেস করলেন - কি করলে আপনি খুশি হবেন! 
তখন স্বামী বিবেকানন্দ বললেন - "Love India ". 

স্বামীজি কি কেবল এই ভূখণ্ডকেই কেবল নির্দেশ করলেন!

 না। 
তিনি Love India বলতে বুঝিয়েছেন সেই চিরন্তন ভারতবর্ষ এবং আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষকে। 

এবার জানতে হবে 'আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষ' কাকে বলে। 

আমি এই দেশে জন্মেছি বলে ভারতবর্ষকে ভালবাসছি, তা নয়। Geographical boundary ভৌগলিক সীমানা পরিবর্তন হয়েই যাচ্ছে সব সময়। আগে ভারতবর্ষের সীমা কি ছিল, এখন কি হয়েছে! 
সুতরাং এই সীমাবদ্ধ ভারতবর্ষের কথা স্বামীজি বলছেন না। ভারতবর্ষকে ভালোবাসো যখন বলছেন তখন এই চিরন্তন সত্য যে ভারতবর্ষে আবিষ্কার হয়েছিল, তাকে বলছেন।

 সুপ্রাচীন ভারতে ঋষিরা যে ধর্ম জ্ঞান লাভ করেছিলেন, যে সত্য ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছর ধরে ধরে রেখেছে, অভ্যাস করেছে, মানবজীবনের চুড়ান্ত স্বার্থকতায় পৌঁছেছে, তাকেই প্রণাম করেছেন। এবং সেই আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষকেই ভালোবাসতে বলেছেন। 

Love India - not the geography but ideology and philosophy of India. 


#swamilshatmananda

 #Ishatmananda

 https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1"

 

No comments:

Post a Comment

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers