Blog Archive

Sunday, April 12, 2026

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ  


স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন -  যতদিন না ব্রিটিশ ভারতে এসেছে, ততদিন এখানে কেউ না খেয়ে মরে নি।

কেন!

আমাদের শেখানো হয়েছিল - 

"অতিথি দেব ভবঃ"


কেউ যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, আমি যদি নাও খাই। তবু অতিথিকে দিতে হবে। 

আমাদের ছোটবেলায় দেখা যেত, আশেপাশের প্রতিবেশীদের মধ্যেও দেখতাম, দুপুরে খাওয়ার আগে একজন অতিথিকে খাওয়াতেই হবে। অতিথি ধরে আনা হত। কে কোথায় অভুক্ত খোঁজ রাখা হত। সব সময় অতিথি পাওয়া যেত না। তবু এটাই tradition ছিল।

অতিথিকে ভোজন করিয়ে, তবেই গৃহস্থ ভোজন করবে।

এই সব tradition, আচারানুষ্ঠানের কথা সমাজে এখন খুব করে বলতে হবে।

"অতিথি দেব ভবঃ"


আমাদের শিক্ষরা ক্রমে ক্রমে হতাশ হয়ে পরছেন।

কেন!

এই যে মুভি সিনেমাগুলো হচ্ছে, তাতে খলনায়কদের হিরো করে দেখানো হচ্ছে।

কিন্তু সত্যিকারের যারা নায়ক, প্রকৃত অর্থে হিরো। যারা সাধারণ চটি পরে, একটা ছোট্ট ক্লাসরুমে বসে যে অংক শেখাচ্ছেন। এই শিক্ষক, যারা জ্ঞানের বাতি জ্বালাচ্ছেন। তাদের সন্মান করবো না!

 হঠাৎ করে কাউকে বেছে এনে ন্যাশনাল এডওয়ার্ড দিয়ে দিলাম। ওতেই হয়ে গেল!!!

প্রত্যেকটা জনে জনে আমাদের বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে, লেখার মধ্যে দিয়ে, ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে সে কথাই আলোচনা করতে হবে। এভাবে সেই শিক্ষকরা আবার অনুপ্রেরণা পাবে। সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।


আমরা যদি একটু উদ্যোগ নিয়ে ভালো কাজ গুলো করতে পারি। তাহলে দেখা যাবে নিজের ভেতরে একটা আনন্দ, তৃপ্তি ভাব আসছে।

মানুষ তো মরণশীল!

কিন্তু মরবার আগে যদি আমি জানি, আমি কিছু করেছি। যেটা মানুষের জীবনে একটা কাজ আমি করেছি।


সেটি কি!

স্বামী বিবেকানন্দ যেটি চেয়েছিলেন। একজনকে আমি শিক্ষিত করতে পেরেছি। একজনকে আমি আত্মবিশ্বাসী দিতে পেরেছি।


আদি শঙ্করাচার্য আমাদের বেদান্ত শিখিয়েছেন।

সেই বেদান্ত বর্তমান যুগে স্বামী বিবেকানন্দ প্রচার করেছেন।


আদি শঙ্করাচার্য বেদান্তে‌ যে কথা বলেছেন, একদম ঠিক কথাই বলেছেন।

তিনি বলেছেন যে - প্রতিটি জীব হচ্ছেন, সেই অদ্বৈত ব্রহ্ম।

শঙ্করাচার্য বলছেন - আমি অর্ধেক শ্লোকে তোমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি, কোটি কোটি গ্রন্থ যে কথা বলেছে।

সেটি কি!

ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।


এই আমাদের বেদান্তের জ্ঞান।

সর্বব্যাপী চৈতন্য হচ্ছে সত্য। আর জগৎ যা দেখছি। নাম আর রূপের যে জগৎ, এ মিথ্যা।


এই মিথ্যা মানে চিরন্তন সত্য নয়। এখন আছে বটে, কিন্তু চিরন্তন থাকবে না। তাই মিথ্যা।


ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।

তারপরেই বললেন, প্রত্যেকটি প্রাণীই হচ্ছে সেই ব্রহ্ম। আর কোনো কিচ্ছু না। 

তাই কোথায় ভগবানকে খুঁজবো!

আমিই তো সেই ভগবান!

কোথায় আমি চলেছি শান্তির জন্য! এর কাছে কাঁদছি, ওর কাছে কাঁদছি। আমিই তো সেই শান্তির আকার। আমার মধ্যেই তো সমস্ত আধার।


তাহলে বুঝতে পারছি না কেন!


সেখানেই বিবেকানন্দ এগিয়ে এলেন।

নতুন করে বেদান্ত দিলেন - আত্মবিশ্বাসী হও।


স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত কি শেখায়!

শেখায় - আত্মবিশ্বাসী হও।


শঙ্করাচার্যের বেদান্ত বলছে - আত্মজ্ঞানী হও।

বিবেকানন্দ সেটাই অনেকটা সহজ করে, আমাদের মত করে বর্তমান যুগে বললেন - আত্মবিশ্বাসী হও।

"ওরে, তোরা নেই নেই করে কি নেই হয়ে যাবি! তাকিয়ে দেখ, ঐ কজন মাত্র ব্রিটিশ। তারা রাজত্ব করছে তোদের উপর!"

 একসাথে যদি ফুৎকার দেওয়া হয়, ফু দেওয়া হয়। সমস্ত ভারতবাসী যদি একবার একজোট হয়ে ফুৎকার দেয়, তাতেই ব্রিটিশ চলে যায়।



স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন -

"ওরে, তোরা নেই নেই করে কি নেই হয়ে যাবি!"


তাকিয়ে দেখ ঐ কজন মাত্র ব্রিটিশ। ওদের আত্মবিশ্বাস আছে 'আমি পারবো।' আর তোদের নেই।

"আত্মবিশ্বাসী হও।"

বলছেন - নচিকেতার মত আত্মবিশ্বাসী হতে।

নচিকেতা অসাধারণ কথা বলছেন কঠোর উপনিষদে, সেখানে সে অহংকার করছে না। নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে বলছেন-

বহু না মে মি প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।

কিনসিত যমস্য  করতব্যম!


बहूनामेमि प्रथमः बहूनामेमि मध्यमः। 

किं स्विद्यमस्य कर्तव्यं यन्मयाऽद्य करिष्यति॥


নচিকেতার বাবা লোক ঠকাচ্ছেন। সেই যুগে ও মানুষের মধ্যে খারাপ ভাব ছিল। 

নচিকেতার বাবা, নাম কেনার জন্য সর্ব দান যজ্ঞ করছিলেন।

দানের সময় ভালো গরুগুলো লুকিয়ে রেখে, খারাপ গরুগুলো দান করছিলেন।

নচিকেতা বাড়ির ছেলে জানে যে বাবা ভালো গরু সব দুরে লুকিয়ে রেখেছেন। খারাপ দিয়ে নাম করছেন।

তখন নচিকেতা বুঝলেন, এই খারাপ কর্মের জন্য বাবাকে কষ্ট পেতে হবে।

তখন বাবাকে বাঁচাবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন। বাবাকে কি ভাবে সেবা করলেন!

নচিকেতা বাবাকে গিয়ে বললেন - আমিও তো তোমার সম্পত্তি। তুমি সব সম্পত্তি দান করছো, আমাকে কাকে দান করলে! 

বারবার এক কথা জিজ্ঞেস করায়, বাবা রেগে বললেন - যমকে দিলাম। যমের কাছে যা।


ঠিক সেই সময় নচিকেতা যেটা ভাবছেন, সেটাই স্বামী বিবেকানন্দ অসাধারণ ভাবে তুলে ধরলেন।

নচিকেতা বললেন -

"বহু না মে প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।"


আমি অনেকের মধ্যে প্রথম।

আমি অনেকের মধ্যে দ্বিতীয়।

কিন্তু কখনোই আমি একদম হেলাফেলা নই।

কিন্তু বাবা কেন মৃত্যুর কাছে পাঠালেন! 

এটাই নচিকেতার আত্মবিশ্বাস।


আমি একাই পারবো, আর কেউ পারবে না।

- এটা অহংকার।


আমি পারি, অন্যরাও যে কেউ পারে।  কিন্তু আমিও অবশ্যই পারিই।


বহু না মে প্রথম।

অনেকর মধ্যে আমি প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।


बहूनामेमि प्रथमः बहूनामेमि मध्यमः। 

किं स्विद्यमस्य कर्तव्यं यन्मयाऽद्य करिष्यति॥


“অনেকের মধ্যে আমি প্রথম (শ্রেষ্ঠ), অনেকের মধ্যে আমি মধ্যম।

আজ যম আমার প্রতি করবেন?”


আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।

প্রথমে এখন আমাদের নিজেদের মধ্যে এই ভাব ফিরেয়ে আনতে হবে।

অহংকার কিন্তু কাম্য নয়।


এখন চূড়ান্ত অহংকার এসেছে আমাদের মধ্যে।

কিন্তু সেটা infurity complex হীনমন্যতার চূড়ান্ত। 


এখন ভারতবাসীর মধ্যে চূড়ান্ত অহংকার এসেছে।

কিন্তু সেটা infurity complex এর চূড়ান্ত।


সমানে যে বাজনা বাজায়, বুঝতে হবে ও ব্যাচারী খুব ভয়ে ভয়ে আছে। সে কারণে এই infurity complex হীনমন্যতা ঢাকবার জন্য আমরা এত supiurity অহংকারজনিত শ্রেষ্ঠত্ববোধ দেখাবার চেষ্টা করি। এসবের কোন প্রয়োজন নেই।


আমরা glamour আকর্ষণ দেখাবার চেষ্টা করি। আমরা বিভিন্ন রকমের চেষ্টা করি। আমার সাথে এর পরিচয় আছে, ওর পরিচয় আছে - এসব করি।

কেন করি!


Reflected glory অন্যের গৌরবে নিজের গর্ব বোধ করার চেষ্টা করি।

কিন্তু এসবের কোন প্রয়োজন নেই।


এই ভারতবর্ষকে আবার আমাদের নিয়ে যেতে হবে সেই দুটো পথে যেখানে আমাদের নিয়ে গেছিল 

ভারতের অতীত এবং সেখানে আমাদের অর্থনৈতিক চূড়ান্ত অসাধারণ অবস্থা। তার জন্য সারা পৃথিবী ভারতবর্ষে আসত।


ভারতবর্ষ থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, অর্থ পাওয়ার জন্যে। 

আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ছিল - অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি।


এই ভারতবর্ষকে স্বামীজি আবার ভালবাসতে বলেছেন।

আমাদের আজ থেকে চিন্তা হোক, কর্ম হোক, ধ্যান হোক যাতে আমরা ভারতবর্ষকে ভালোবাসতে পারি।


এবং ভারতবর্ষকে ভালোবাসলেই স্বামীজির আশির্বাদ আসবে।


"Love India", জয় স্বামীজি।


#swamilshatmananda 

#Ishatmananda 


https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


মুক্তি আমাদের (ভারতবাসীর) লক্ষ্য, স্বর্গ নয়।

স্বর্গ থেকে আবার আমরা ফিরে আসি।

আমরা বিশ্বাস করি - ভালো কাজ করলে স্বর্গে যাই। খারাপ কাজ করলে নরকে যাই। খারাপ কাজ শেষ হয়ে গেলে আবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসি। এই পৃথিবীতেই আমাদের থাকতে হবে।

এই ভারতবর্ষকে যখন আমরা ভালোবাসার জন্য বলছি, তখন এই philosophy দর্শনকে ভালোবাসার কথা বলতে চাইছি।


কিন্তু philosophy দর্শনের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা জিনিষ রয়েছে। সেটা হচ্ছে ভারতের অর্থনীতি।

যদি আমরা প্রত্যেকটি মানুষকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থের দিক থেকে দাঁড় করাতে না পারি। তাহলে সে মানুষটি কখনোই আরো উচ্চ চিন্তা করতে পারবে না।

তার মনে থাকবে কি করে দুটো রুটি পাবো।

কি করে একটু টাকা রোজগার করবো।

আর সারাক্ষণ যখন ভোগের গল্প বলা হয়, তখন খুব ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়ে যায়।


মাঝে মাঝে দেখা যায় একটা সিনেমা খুব নাম করেছে। প্রচুর টাকা রোজগার করছে। কিন্তু সেই সিনেমায় দেখা যাচ্ছে , সেখানে একজন খলনায়ক villain, সে গাছ কেটে কেটে বিক্রি করছে। প্রচুর মানুষকে মারছে ধরছে। তাকেই নায়ক করে দিয়েছে!



 


মাঝে মাঝে দেখা যায় একটা সিনেমা খুব নাম করেছে। প্রচুর টাকা রোজগার করছে। কিন্তু সেই সিনেমায় কি দেখাচ্ছে!

 সেখানে একজন খলনায়ক villain, সে গাছ কেটে কেটে বিক্রি করছে। প্রচুর মানুষকে মারছে ধরছে। তাকেই নায়ক করে দিয়েছে!

আর যে পুলিশ অফিসার তার কর্তব্য পালন করছেন, তাকে ধরবার চেষ্টা করছেন, তাকে একেবারে bafun  ভাঁড়/বিদূষক বানিয়ে দিল! সিনেমায় সে যেন একটা হাস্য কৌতুকের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অত বড় একজন পুলিশ অফিসার। তিনি কর্তব্য পালন করছেন। তিনি গিয়ে যারা চুরি করছে তাদের ধরার চেষ্টা করছেন। সেই law inforsmanent আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী লোকটিকে ভিলেন বানানো হচ্ছে।

আর যে সত্যিকারের ভিলেন গাছ কেটে, চুরি করে পয়সা রোজগার করছে, তাকে hero নায়ক করা হচ্ছে! 

আর দেশ একদম হাততালি দিচ্ছে!

এই সমাজ!

কারো মাথায় এলো না, কি আমরা promote প্রচার করছি!!!


এই ভারতবর্ষের কথা কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ বলেন নি।

এত বোকা মানুষের কথা আমরা ভারতবর্ষে কেউ ভাবতে পারি না।

একটা লোক লিখলো না।

একটা লোক #প্রতিবাদ করলো না!

প্রত্যেকে হাততালি দিলো।

কিন্তু কি শিক্ষাটা পেলাম!


যে কোন জিনিস হোক।

কেউ একটা কবিতা লিখুক, একটা গল্প লিখুক, কেউ একটা সিনেমা তৈরি করুক।

প্রত্যেকটির পিছনে একটা #শিক্ষা তো থাকবে।

সে নিজে নিজে কবিতা লিখে, নিজেই পড়ে স্বপ্ন দেখছে, তাতে কোন আপত্তি নেই।

কিন্তু যখন সে, সেটাকে সমাজের কাছে দিচ্ছে। তখন সমাজের অল্প বয়সীরা তার থেকে কি শিখবে! খলনায়ক হতেই শিখবে। তারা আর পুলিশের চাকরিতে যাবে না।

বলবে এসবের কোন প্রয়োজন নেই। টাকা পয়সাটাই আসল।

এই ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে দিয়ে আমরা চলেছি।

ভাবাই যায় না!

এই ভারতবর্ষের কথা স্বামীজি বলেন নি।

তাহলে কি আমরা হারিয়ে যাব!

না, হারাবো না। তার মূল কারণ হচ্ছে, স্বামী বিবেকানন্দের এই কথাটা -

"এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ।"

 

বিভিন্ন জায়গায় এখন খুব ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে, বেদান্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কিছুটা মানুষ না বুঝেই করতে থাকে। কিন্তু একটু তো বুঝছে! জিজ্ঞাসা জেগেছে, এর মধ্যে কি আছে।

এজন্য এই বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে, ভারতবর্ষে "Love India"।


ভারতবর্ষের এখন যে ভৌগলিক অবস্থান, তাকে অবশ্যই আমরা ভালোবাসবো। ভারতবর্ষের সমাজ, প্রকৃতিকে ভালোবাসবো।

কিন্তু "ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"র প্রকৃত অর্থ হচ্ছে - ভারতবর্ষের এই সনাতন চরিত্র।

এই সনাতন চরিত্র কি অদ্ভুত ভাবে শেখায় -  স্বর্গ নয়, মুক্তিই হচ্ছে আমাদের আসল লক্ষ্য।

সেই মুক্তি আমাদের কি দিতে পারে!

সেই মুক্তি আমাদের আনন্দ দেয়।

কেন আনন্দ দেবে!


কারণ আনন্দই আমাদের লক্ষ্য।

আনন্দ থেকেই আমাদের সৃষ্টি হয়েছে।

"আনন্দাদ্ধ্যেব খল্বিমানি ভূতানি জায়ন্তে,

আনন্দেন জাতানি জীবন্তি,

আনন্দং প্রয়ন্ত্যভিসংবিশন্তি।”

[আনন্দ (ব্রহ্ম) থেকেই সমস্ত প্রাণী জন্মায়, আনন্দের দ্বারাই বাঁচে এবং অন্তিমে আনন্দেই লীন হয়। 

এখানে “আনন্দ” বলতে সাধারণ সুখ না, বরং চিরন্তন, অসীম, পরম সত্য (ব্রহ্ম) বোঝানো হয়েছে। এটি সৃষ্টির মূল উৎস ও পরিণাম।]


এই সমস্ত প্রাণগুলো, প্রাণীগুলো আনন্দ থেকেই এসেছে।

সে জন্য আমরা আনন্দই খুঁজে বেড়াচ্ছি।

কিন্তু ভুল জায়গায় আনন্দ খুঁজছি।

ভাবছি খাবারের মধ্যে, ভালো থাকার মধ্যে, মনে করছি নানান এটা ওটার মধ্যে আনন্দ - কিন্তু ভুল হয়ে যাচ্ছে।


স্বামী বিবেকানন্দের পতাকা নিয়ে, স্বামী বিবেকানন্দের আলোটা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমরা যে যেখানে আছি যতটুকু সাধ্য এটার মধ্য একটু চেষ্টা করতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ একটু ছড়িয়ে দিতে হবে।


আমাদের সকলের এক লক্ষ্য - আনন্দ। কিন্তু সেটা ভুল জায়গায় খুঁজছি।

স্বামী বিবেকানন্দ আদর্শ সকলে মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিবেকানন্দের পতাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আমরা যে যেখানে আছি যতটুকু সাধ্য এটার মধ্য একটু চেষ্টা করতে হবে, ছড়িয়ে দিতে হবে। 

আমাদের মধ্যে তার শক্তি কাজ করবেই করবে। 

বিবেকানন্দ বলেছেন -

যে আমার কাজ করবে, আমার শক্তি তার মধ্যে প্রবেশ করবে।


আর বিবেকানন্দের‌ শক্তি মানে শিবের শক্তি। 

এই শিবের শক্তি কি!

Auspiciousness, পবিত্রতা।

মঙ্গলময় কর্ম, শুভ কর্ম।


Auspiciousness, এই পবিত্রতা, সেটিই হচ্ছে শক্তি।

তাহলে আমরা কি করবো!

প্রথমে যেটি করতে হবে -

Niḥśreyasa (निःश्रेयस) 

"সর্বোচ্চ কল্যাণ," 

"এর চেয়ে ভালো আর কিছু নেই” বা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট অবস্থা, মোক্ষ, মুক্তি, অথবা পরম সুখ।


-এটা আমাদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান।


এর সাথে economy development অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকটাও দেখা।


আমরা যে যেখানে আছি, যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করতে হবে একত্রিত হয়ে

খানিকটা সাহায্য করা। 

আমরা একটা গ্রামে গিয়ে, সেখানে যতগুলি স্কুল আছে সবকটা রং করে দিতে পারি। 

সেখানে যদি ল্যাবরেটরি বানিয়ে দিই, ভালো লাইব্রেরি বানিয়ে দিই। 

যদি সুন্দর করে টিচার্স কমনরুম বানিয়ে দিই, কারণ টিচার শিক্ষকদের উপর সব নির্ভর করছে। 

সেই টিচার শিক্ষক যারা পড়াচ্ছেন, তাদের সাথে কথা বলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস যদি জাগিয়ে তুলতে পারি,

 - "আপনি একটা বিরাট কাজ করছেন। আপনি হয়তো জানেন না সেটা হচ্ছে মানুষ তৈরি করছেন। 

যারা গাড়ি তৈরি করে, প্লেন তৈরি করে কারখানায়, বা অন্যান্য কিছু তৈরি করছে, তারা কেমন সেজেগুজে ফিটফাট হয়ে থাকে। কিরকম আমি অমুক জায়গায় কাজ করি বলে গর্ব করে। 

আর আপনারা মানুষ তৈরি করছেন! শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ তৈরির আসল যন্ত্র। 

তাদের মধ্যে যদি আত্ববিশ্বাস না থাকে, সন্মান না থাকে, আত্মশ্রদ্ধা না থাকে তাহলে তিনি কি করে প্রকৃত মানুষ তৈরি করবেন!"

এই ভাব কি ভাবে সেই মানুষ তৈরির রূপকারদের মধ্যে বেশি করে জাগ্রত করা যায়, সেটা দেখতে হবে।


"Love India" - বলে স্বামীজি যখন ডাক দিলেন। তখন শুধু সে কথা যে তিনি ম্যাকলাউডকে বললেন তা নয়। তিনি আমাদের সবাইকে বললেন।


স্বামীজি যখন বললেন - Love India. 

তখন লন্ডন থেকে একটি মেয়ে চলে এল ভারতবর্ষে। 

আরেকটি মেয়ে তারই বয়সী, তিনি চলে এলেন আমেরিকার ডেট্রয়েট থেকে। তিনিও কলকাতায় চলে এলেন। সিস্টার ক্রিস্টিন। 

সিস্টার নিবেদিতা ও সিস্টার ক্রিস্টিন - এরা দুজনে এক সাথে আমাদের মেয়েদের শিক্ষার জন্যে অসাধারণ কাজ করেছেন। 

প্রথম পাথর ভাঙার কাজটি তারা করে গেছেন। 

আমাদের এঁনাদের স্মরণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদেরও এঁনাদের মত কিছু করতে হবে। 

Individual আলাদা বা এককভাবে করতে গেলে, হয়ত সে ভাবে করতে পারবো না। তাই সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে করতে হবে।  


স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে "ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"র জন্য আমাদের সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে এগোতে হবে। 

আমরা সবাই মিলে আলোচনা করতে পারি। লক্ষ্য স্থির থেকে ধিরে ধিরে এগিয়ে যেতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় আমাদের চেষ্টা করতে হবে। 


আর যে মূহুর্তে চেষ্টা করবো, আমাদের অতি সামান্য সামান্য কাজ যখন শ্রী রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দ আশির্বাদ পুষ্ট হবে, তখন কারো সাধ্য নেই সেটাকে বন্ধ করার।


মানুষ এখন ধর্ম নিয়ে পাগল হচ্ছে। কিন্তু ভুল ভাবে চালিত হচ্ছে। ধর্ম মানে ভালোবাসা, উদারতা। কিন্তু ক্ষুদ্রতা নয়। 

শুধু মাত্র 'আমার', 'আমার' করে যদি কেউ ভালোবাসে , তখন সেই ক্ষুদ্রতা কখনোই আমাদের শান্তি দিতে পারবে না। যে শান্তি আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি।

যদি সত্যি সত্যি শান্তি চাই, তাহলে আমাদের এই ভারতবর্ষকে সত্যি ভালোবাসতে হবে।


এই ভারতবর্ষ সম্পর্কে দু তিনটি কথা জেনে রাখতে হবে।


এক, এই ভারতবর্ষ একটা চিরন্তন ভাবে চলেছে, কারণ এই ভারতবর্ষের উপর ভগবানের একটা কৃপা দৃষ্টি আছে।

যখন মুসলিম সম্রাটরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের আসতে লাগল, গজনীর সুলতান মাহমুদ যখন ভারতে এলেন, তিনি আমাদের নারকেল গাছ দেখে খুব অবাক হয়ে গেলেন। 

তিনি তো মরুভূমির লোক। নারকেল গাছ কখন দেখেন নি। 

শোনা যায় নারকেল গাছ দেখে তিনি বলেছিলেন, "আল্লাহ , হিন্দুস্থান কে উপর ইতনাহি মেহেরবান হে, আসমানকে উপর এক লওটা পানি, অর দোঠো রোটি রাখ দিয়া।"

(अल्लाह हिंदुस्तान पर इतना मेहरबान है कि आसमान के ऊपर एक लोटा पानी और दो रोटी रख दिया है।)


এই ভারতবর্ষের উপর ভগবানের এমন কৃপা, যে দেখ লক্ষ্য করে আকাশের উপর এক ঘটি জল আর দুটি রুটি রেখে দিয়েছেন।


যখন আমরা নারকেল কাটি তখন দুটো নারকেল মালা বের হয়। তাই তাকে দোঠো রোটি বললেন। আর তার মধ্যে থেকে জলও পাওয়া যায়। 


আর কি চাই মানুষের! সেই রুটি আর জল খেয়েই সে তৃপ্ত হয়ে যাচ্ছে।


#swamilshatmananda 

#Ishatmananda 


https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


ভারতের মানুষ হিমালয়, পর্বত, সমুদ্র, নদী, গাছপালা, জীবজন্তু সকলকে পুজো করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য।

মানুষ যদি কৃতজ্ঞ না থাকে তাহলে সে আর মানুষ থাকে না।

শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা ভারতবাসীর প্রথম শিক্ষা।

এই শিক্ষার উপর, জ্ঞানের উপর খুব জোড় দেওয়া হচ্ছে ।


যতই টাকা পয়সা থাক, যদি তার শিক্ষা না থাকে, সংস্কৃতি না থাকে - ভারতবর্ষ তাকে ভাল চোখে দেখে না। শূন্য দৃষ্টিতে দেখে, চলে যায়।

যার শিক্ষা আছে, সংস্কৃতি আছে সে খুব সাধারণ মানুষ হলেও তাকে খুব মর্যাদা দিয়ে থাকে।

কেন! 

ভারতবর্ষ শিক্ষার উপর খুব জোড় দিয়ে থাকে।


ভারতবর্ষের জনপ্রিয় দেবী হচ্ছেন - মা দুর্গা।

দূর্গা শব্দটি এসেছে, মা দুর্গম নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন বলে।


কি করেছিল দুর্গম অসুর!

দুর্গম ক্ষমতা পেয়ে পড়াশোনা, শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল।

দেবতাদের হারিয়ে তাদের রাজ্য দখল করে সে যেটা করল, কাউকে পড়াশোনা করতে দেবে না।

তার ফলে মানুষ ধিরে ধিরে দুর্বল হয়ে পড়ছিল।

জ্ঞান বুদ্ধি না থাকলে, সে তো দুর্বল হবেই।

যার প্রচন্ড গায়ে শক্তি, কিন্তু জ্ঞান নেই - তাকে খুব সহজে control নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


তাই দুর্গম যখন এরকম করছে, তখন কিছু দিন পর ব্রাহ্মণেরা দেবতাদের সাথে শিবের কাছে গিয়ে সব বললেন।


শিব সব শুনে তার শক্তি দেবী দুর্গার সাথে কথা বলতে বললেন।


মা দুর্গা দুটি জিনিস করলেন। 

প্রথমে সকলকে খেতে দিলেন। 

কারণ খেতে না দিলে, শক্তি না হলে কোন কিছু করতে পারবে না।


ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেবের কথায় - "খালি পেটে ধর্ম হয় না।"


প্রথম হচ্ছে economy development অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পর যখন তারা স্থিতিশীল হল তার পর দুর্গা অসুর দুর্গমের সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত করলেন। তার পর আবার সবার মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বাললেন।


ভারতবর্ষের শক্তি কি!

জ্ঞান। 

এই জ্ঞান চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন পৌঁছায় তখন আমাদের শেখায় প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে চৈতন্য রয়েছে।

এই "প্রতিটি প্রাণীতে চৈতন্য।" এই জ্ঞান আমাদের বেদ শিখিয়েছে।


বেদ অর্থাৎ জ্ঞান।

এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই হিন্দু ধর্ম। 

আর হিন্দু ধর্মটাই আমাদের সমাজ।

ধর্ম ছাড়া আমাদের সমাজ নেই। 

কিন্তু এই ধর্ম আমাদের narrow minded সংকীর্ণ মনের করছে না, উদার করছে।

সে জন্যই স্বামীজি বলছেন - "ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"। 

মানে ভারতবর্ষের ইতিহাসটাকে জানতে হবে। ভারতবর্ষের philosophy দর্শনটা জানতে হবে।


ধর্ম সেটা নির্ভর করে সেই দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থান উপর। Economical and social condition এর উপর।

ভারতবর্ষ যেহেতু অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল, তাই আমরা কখনো বলিনি, আমরা স্বর্গে যাবো।


ভারতবর্ষ স্বর্গ নিয়ে চিন্তা করে না। বরং স্বর্গটাকে বলে, ওটা মাঝপথে পরছে।

এই যে ভারতবর্ষ, যার সম্পর্কে স্বামীজি বলছেন, - যদি কেউ মুক্তি পেতে চায়, তাহলে তাকে এই ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করতে হবে। 


পৃথিবীতে আসতেই হবে। আর পৃথিবীর মধ্যে এই ভারতবর্ষ সব সময় কর্মের উপর জোড় দিচ্ছে। 


এই কর্ম আমরা কি করে করি!

আমরা তিন ভাবে কর্ম করি।

চিন্তার মাধ্যমে কর্ম।

মুখ দিয়ে বলে, বাক্যের মাধ্যমে কর্ম।

আর হাত পা দিয়েও আমরা কর্ম করি।


কর্ম হচ্ছে - কায়িক, বাচিক ও মানসিক।

এই তিন ভাবে কর্ম করি।


কর্মের ফলটা আমাদের বদ্ধ করে।

কি করে বদ্ধ করে!

আমরা আকর্ষিত হয়ে যাই।

সেই জিনিসটা ছাড়তে চাই না।


কে চায় না!

মন চায় না।

ফলে আমরা ঘুরে ঘুরে সেখানে চলে আসি।

এই রকম যখন অবস্থা হয়, তখন তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে, আনন্দ পাওয়ার জন্যে তখন বলা হচ্ছে, তোমরা এই কর্ম থেকেই মুক্ত হয়ে যাও।

https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=fvxMkT_rPGxCiQiH


Sunday, March 15, 2026

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


 

স্বামী বিবেকানন্দ যখন বললেন -

"My India, my country."


এই যে 

"ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"।

এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি নিজেদের দিকে তাকাই, আমরা কি করতে পারি।

এটা নিজের প্রশ্ন করতে হবে।

আমি কি করতে পারি!

কেমন করে আমি ভারতবর্ষকে ভালোবাসতে পারি।

যদি আমরা বর্তমান যুগের পরিস্থিতিতে দেখি সেখানে আর্থ সামাজিক অবস্থাটা এমন একটা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে আমরা অসহায় বোধ করছি।


ভারতবর্ষকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা হিমালয়কে দেবতা বলে।

সমুদ্রকেও দেবতা বলে।


কেন হিমালয়কে দেবতা বলে!

অনেকের ধারণা হিমালয়ে সব দেবতারা থাকেন। মা দুর্গার বাপের বাড়ি হিমালয়ে। এবং ইত্যাদি ইত্যাদি।

ঋষি মুনিরাও হিমালয়ে থাকেন। এসব ঠিকই।


কিন্তু আসল কারণটা কি!

জানলে অবাক লাগবে, হিমালয় আমাদের ভারতবর্ষকে চিন থেকে যে প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়া আসছে তাকে বন্ধ করে তীব্র ঠাণ্ডা হাওয়া থেকে পিঠ দিয়ে রক্ষা করছে। 

আবার দক্ষিণে মহা সমুদ্র থেকে জলকণা নিয়ে যে বাতাস বয়ে চলে যাচ্ছে উত্তরের দিকে, সেটাকে থামিয়ে তার থেকে বৃষ্টি সৃষ্টি করে এই হিমালয় সারা ভারতবর্ষকে উর্বর করে তুলছে। আমাদের নদীগুলোও সে কারণে প্রচুর সাহায্য করছে।


সে কারণে আমাদের পুজোতে প্রথমেই নদীদের নাম ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

যে কোন পুজোয় যে জল ব্যবহার করা হয় সেটাতে আঙ্গুল ডুবিয়ে পুরোহিতরা  বলেন -


ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী।

নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।

(অর্থ - হে গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু ও কাবেরী নদীগণ, আপনারা এই স্নানের জলে (বা পূজার জলে) এসে উপস্থিত হোন বা অধিষ্ঠান করুন। )


এই সাতটি নদীর নাম বলা হয়। এত সুন্দর করে বলছেন, মনে হয় সংস্কৃত মন্ত্র বললেন। 

আসলে সাতটি নদীর নাম করলেন। 

কেন! 

আরো অনেক নদীও আছে। তবে এই সাতটি নদী ভারতবর্ষের মাটিকে খুবই উর্বর করে তুলেছে। সে জন্য ভারতবর্ষে কোনদিন খাদ্যের অভাব হত না।

এই হিমালয় আমাদের এতটা সাহায্য করে বলে, যদিও এটা পাহাড় তবুও আমরা তাকে দেবতার সন্মান দিই।

সমুদ্র আমাদের রক্ষা করে বিদেশী আক্রমণ থেকে। এছাড়া এই সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করে। সে কারণে সমুদ্রকে দেবতা মান্য করি এবং নদীগুলোকে পুজো করি।

গাছ থেকে অক্সিজেন পাই বলে গাছকে পুজো করি।

পশুপাখিদের থেকেও সাহায্য পাই বলে, তাদেরও পুজো করি।

কেন করি!

কারণ কৃতজ্ঞতা।

মানুষ যদি কৃতজ্ঞ না থাকে তাহলে আর মানুষ থাকে না।


#swamilshatmananda 

#Ishatmananda 


https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1

..........................


India's Awakening


It was in 1897 that Swamiji told the people: 'For the next fifty years let Mother India be your God. Serve your country as you would serve God, and India will awaken!"


Not long after that, men and women sacrificed their homes, their wealth, and even their lives for their country's freedom.


From 1897 to 1947 is exactly fifty years. Fifty years after Swamiji spoke those words, India achieved independence from British rule. It was the first great step of the awakening Swamiji had described. Without political independence the national awakening could not come, for freedom is essential to growth and development.


Swamiji said that political ideals and political leaders have no real power in India; nor have social ideals or commercial ideals. The only ideal that has real and lasting power in India is the ideal that is based on inner strength. It is a spiritual ideal that says that the soul of man is more powerful than anything else. That is India's national ideal, and when she puts this ideal into practice in her daily life, she will be strong and powerful.


If it is true that the soul of man is more powerful than anything else, then this ideal is true for all people everywhere. So Swamiji said that Indians should now go out into the world and mix with other nations and tell them about this great ideal.


When Indians do that, then will come the awakening of India that Swamiji spoke about. Using the great power that lies in the soul of men, India will spread peacefully throughout the world the equality and justice and sharing of benefits that so many people are now fighting for.


ভারতের জাগরণ


১৮৯৭ সালে স্বামীজী জনগণকে বলেছিলেন: 'আগামী পঞ্চাশ বছর ধরে ভারত মাতাকে তোমাদের ঈশ্বর হিসেবে গ্রহণ করো। তোমাদের দেশকে ঈশ্বরের সেবা করার মতো সেবা করো, তাহলে ভারত জেগে উঠবে!'


এর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, পুরুষ ও মহিলারা তাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য তাদের ঘরবাড়ি, তাদের সম্পদ এমনকি তাদের জীবনও উৎসর্গ করেছিলেন।


১৮৯৭ থেকে ১৯৪৭ সাল ঠিক পঞ্চাশ বছর। স্বামীজীর এই কথাগুলো বলার পঞ্চাশ বছর পর, ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এটি ছিল স্বামীজীর বর্ণিত জাগরণের প্রথম মহান পদক্ষেপ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া জাতীয় জাগরণ আসতে পারত না, কারণ স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অপরিহার্য।


স্বামীজি বলেছিলেন যে ভারতে রাজনৈতিক আদর্শ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কোনও প্রকৃত শক্তি নেই; সামাজিক আদর্শ বা বাণিজ্যিক আদর্শও নেই। ভারতে একমাত্র আদর্শের প্রকৃত এবং স্থায়ী শক্তি হল সেই আদর্শ যা অভ্যন্তরীণ শক্তির উপর ভিত্তি করে। 

এটি একটি আধ্যাত্মিক আদর্শ যা বলে যে মানুষের আত্মা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এটি ভারতের জাতীয় আদর্শ, এবং যখন সে তার দৈনন্দিন জীবনে এই আদর্শকে বাস্তবায়িত করে, তখনই সে শক্তিশালী হবে।


যদি এটা সত্য হয় যে মানুষের আত্মা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী, তাহলে এই আদর্শ সর্বত্রের সকল মানুষের জন্য সত্য। তাই স্বামীজি বলেছিলেন যে ভারতীয়দের এখন বিশ্বের কাছে যাওয়া উচিত এবং অন্যান্য জাতির সাথে মিশে যাওয়া উচিত এবং তাদের এই মহান আদর্শ সম্পর্কে বলা উচিত।


যখন ভারতীয়রা তা করবে, তখন স্বামীজি যে ভারতের কথা বলেছিলেন তার জাগরণ আসবে। মানুষের আত্মার মধ্যে যে মহান শক্তি নিহিত আছে তা ব্যবহার করে, ভারত শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বজুড়ে সেই সাম্য, ন্যায়বিচার এবং সুবিধার ভাগাভাগি ছড়িয়ে দেবে যার জন্য এত মানুষ এখন লড়াই করছে।

.................


Get up O my brethren Get up with your ancient glory.


See Swamiji by your side Shake off all your vague weakness.


Remember your real nature That you are as pure as Father in Heaven


Swamiji please hold our hands; Give us courage to fill up our hearts, Weeping at your lotus feet millions of your countrymen.


Get up O my brethren.... get up With your ancient glory


We have renounced the World And have taken up saffron flag Now waiting for your order O Swamiji our Leader


We will destroy which is evil, And will build up our World As happy as Heaven


Swamiji please hold our hands;


Give us courage to fill up our hearts Weeping at your lotus feet Millions of your countrymen.


Get up O my brethren Get up with your ancient glory.


With heartfelt gratitude -Song written and sung by Rev.Maharaj IshatmanandaJi in reverence to Swami Vivekananda


উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ,

উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।


দেখো, স্বামীজি তোমাদের পাশে আছেন,

তোমাদের সব অস্পষ্ট দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলো।


স্মরণ করো তোমাদের প্রকৃত স্বরূপ—

তোমরা স্বর্গের পিতার মতোই পবিত্র।


স্বামীজি, দয়া করে আমাদের হাত ধরুন;

আমাদের হৃদয় সাহসে ভরিয়ে দিন।

আপনার পদপদ্মে অশ্রুসজল হয়ে

কোটি কোটি দেশবাসী প্রার্থনা জানাচ্ছে।


উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ…

উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।


আমরা সংসার ত্যাগ করেছি,

উত্তোলন করেছি গেরুয়া পতাকা।

হে স্বামীজি, আমাদের নেতা,

এখন আমরা আপনার আদেশের অপেক্ষায়।


আমরা ধ্বংস করব সব অশুভকে,

আর গড়ে তুলব এমন এক বিশ্ব

যা হবে স্বর্গের মতো সুখময়।


স্বামীজি, দয়া করে আমাদের হাত ধরুন;

আমাদের হৃদয় সাহসে ভরিয়ে দিন।

আপনার পদপদ্মে অশ্রুসজল হয়ে

কোটি কোটি দেশবাসী প্রার্থনা জানাচ্ছে।


উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ,

উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।


---

 গানটি রচনা করেছেন Rev. Maharaj Ishatmananda, গভীর শ্রদ্ধায় Swami Vivekananda-কে উদ্দেশ করে।



Saturday, March 14, 2026

Love India - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


ব্রহ্মজ্ঞান - সর্বভূতে ঈশ্বর রয়েছেন , চৈতন্য রয়েছেন।


(ব্রহ্মজ্ঞান হলো উপনিষদব্রহ্মসূত্র ও গীতায় বর্ণিত পরম সত্যের উপলব্ধি যা বিশ্বাস করে ঈশ্বর সর্বভূতে অন্তর্যামী রূপে ও চৈতন্যরূপে বিরাজমান )


ব্রহ্মনিষ্ঠ গৃহস্থের স্বা তত্ত্ব বিজ্ঞান পরায়ণা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 


("ব্রহ্মনিষ্ঠ গৃহস্থের স্বা তত্ত্ব বিজ্ঞান পরায়ণা”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক রচনাশৈলীর সঙ্গে সম্পর্কিত আধ্যাত্মিক ভাবধারার একটি অংশ। এটি সাধারণত উদ্ধৃত হয় ধর্ম, ব্রহ্ম-চিন্তা ও গার্হস্থ্য জীবনের আদর্শ ব্যাখ্যা করতে।)


রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ভারতবর্ষের গৃহস্থ ব্রহ্মনিষ্ঠ হবেন। সদাসর্বদা ব্রহ্মকে ধরে থাকবেন। তারা জীবনে যাই করুক না কেন জ্ঞান চর্চার বাসনা কখনো সে ত্যাগ করবে না।


'আমি কে, কোথা থেকে এলাম' - এ তত্ত্ব জানার বাসনা সব সময় তার থাকবে।


ভারতবর্ষের গৃহস্থ যে কর্মই করুক না কেন, ভগবানের চরণে সেটি অর্পণ করবে। 


পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবাসীর মনে স্বাধীনতার ইচ্ছে জাগ্রত করার জন্য বললেন - 


"মনে রেখো জন্ম থেকেই তোমরা দেশমাতৃকার জন্য বলি প্রদত্ত।"


এই দেশের বৈশিষ্ট্য কি!


"I LOVE INDIA, not because I cultivate the idolatry of geography, not because I have had the chance to be born in her soil, but because she has saved through tumultuous ages the living words that have issued from the illuminated consciousness of her great sons—Satyam Jñānam Anantam Brahma: Brahma is Truth, Brahma is Wisdom, Brahma is Infinite; Śāntam Śivam Advaitam: Peace is in Brahma, goodness is in Brahma, and the unity of all beings.


‘The householder shall have his life established in Brahma, shall pursue the deeper truth of all things, and in all activities of life dedicate his works to the Eternal Being.’


Thus we have come to know that what India truly seeks is not a peace which is in negation, or in some mechanical adjustment, but that which is in Śivam, in goodness; which is in Advaitam, in the truth of perfect union; that India does not enjoin her children to cease from karma, but to perform their karma in the presence of the Eternal, with the pure knowledge of the spiritual meaning of existence; this is the true prayer of Mother India:


He who is one, who is above all colour distinctions, who dispenses the inherent needs of men of all colours, who comprehends all things from their beginning to the end, let Him unite us to one another with wisdom, which is the wisdom of goodness."


- Rabindranath Tagore


(আমি ভারতকে ভালোবাসি — ভৌগলিক কারণে নয়, কিংবা কেবল এই জন্য নয় যে আমি তাঁর মাটিতে জন্ম নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি

 বরং এই জন্য যে ভারতের মহান সন্তানের আলোকিত চেতনা থেকে উচ্চারিত বাণী—

‘সত্যং জ্ঞানम् অনন্তং ব্রহ্ম’

— ব্রহ্মই সত্য, ব্রহ্মই জ্ঞান, ব্রহ্মই অনন্ত।


‘শান্তম্ শিবম্ অদ্বৈতম্’

— শান্তি ব্রহ্মে, কল্যাণ ব্রহ্মে, এবং সকল সত্তার ঐক্য ব্রহ্মে—

অফুরন্ত যুগধারায় রক্ষা করে এসেছে।


‘গৃহস্থ তাঁর জীবন ব্রহ্মে প্রতিষ্ঠা করবে। সকল বিষয়ে গভীরতর সত্য অনুসন্ধান করবে এবং জীবনের সকল কর্ম চিরন্তন সত্তার উদ্দেশে অর্পণ করবে।’


এইভাবে আমরা জেনেছি যে ভারত যে শান্তি চায় তা নির্বিকার নিষ্ক্রিয়তার শান্তি নয়, কিংবা যান্ত্রিক সমন্বয়ের শান্তিও নয়।

সে শান্তি হলো ‘শিবম্’, কল্যাণে; ‘অদ্বৈতম্’, পরম ঐক্যের সত্যে। 


ভারত সন্তানের প্রতি কর্মপরিত্যাগের উপদেশ দেয় না।

 বরং বলে যে, কর্ম করো—চিরন্তনের উপস্থিতিতে, অস্তিত্বের আধ্যাত্মিক অর্থের বিশুদ্ধ জ্ঞান নিয়ে।

 এই ভারতের সত্য প্রার্থনা:


যিনি এক, যিনি সকল বর্ণভেদের ঊর্ধ্বে, যিনি সকল মানুষের অন্তর্নিহিত প্রয়োজন পূরণ করেন, যিনি সকল কিছুকে তাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত ধারণ করেন,

তিনি যেন আমাদের একে অপরের সঙ্গে জ্ঞানে যুক্ত করেন, সেই জ্ঞান যা কল্যাণের জ্ঞান।”


— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)



স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


"Shall India die!"


(স্বামী বিবেকানন্দ প্রশ্ন করলেন)

যদি ভারতবর্ষ নষ্ট হয়ে যায়, তখন কি হবে!


এ প্রসঙ্গে স্বামীজি বলছেন -


" Shall India die? Then from the world all spirituality will be extinct, all moral perfection will be extinct, all sweet-souled sympathy for religion will be extinct, all ideality will be extinct; and in its place will reign the duality of lust and luxury as the male and female deities, with money as its priest, fraud, force, and competition its ceremonies, and the human soul its sacrifice. 

Such a thing can never be."


(ভারত কি ধ্বংস হয়ে যাবে? 

তখন পৃথিবী থেকে সমস্ত আধ্যাত্মিকতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সমস্ত নৈতিক পূর্ণতা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, ধর্মের প্রতি সমস্ত মধুর সহানুভূতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, সমস্ত আদর্শ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

 তার জায়গায় পুরুষ ও নারী কাম ও বিলাসের দ্বৈততা রাজত্ব করবে।

 অর্থ তার পুরোহিত হবে।

 প্রতারণা, বলপ্রয়োগ এবং প্রতিযোগিতা তার অনুষ্ঠান এবং মানব আত্মা তার ত্যাগ। 


এমন জিনিস কখনও হতে পারে না।)


এই কথাগুলি শুনলে ভয় লেগে যায়।


ভারতবর্ষ - সে যদি তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলে এবং সে যদি কেবল ভোগের দিকে যায় , তাহলে তা এক ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্যে পৌঁছবে।

 তখন লক্ষ্যটা হচ্ছে, নিজের যে আত্মা তাকে শুধু বলি দিয়ে দেওয়া।

দেশ থেকে নানান রকমের খবর শুনে ভয় লাগে।


এজন্যই এ বিষয়ে একটু আলোচনা প্রয়োজন।


স্বামী বিবেকানন্দ যে ভারতবর্ষকে ভালোবাসতে বললেন , এই ভারতবর্ষ হচ্ছে তার সত্যিকারের আত্মা।

এটা যদি আমরা বুঝতে না পারি।

আমরা যদি শুধু মনে করি বড় বড় বাড়ি, গাড়ি আর একটু ভালো করে থাকা এটাই জীবন বর্তমানে। গ্রামে গ্রামে চতুর্দিকে ভারতবর্ষে এখন প্রতিযোগিতা চলছে, অনেক টাকা রোজগার করতে হবে। 

সহজ সরল জীবনটাই নেই।

সবাই মিলে প্রতিযোগিতায় নেমেছে কি করে প্রচুর টাকা রোজগার করবো।

তবে সত্যি কি ভারতবর্ষ মারা যাবে!

এ প্রসঙ্গে স্বামীজি কি বলছেন জানতে হবে।

 

তবে সত্যি কি ভারতবর্ষ মারা যাবে!!

এ প্রসঙ্গে স্বামীজি বলছেন -

" Never be ."

"কখনই তা হবে না।"


স্বামী বিবেকানন্দ যেহেতু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন তাই জানতেন সেটা কখনোই হবে না।

কেন!

ভারতবর্ষের উদারতা, ভারতবর্ষের ভালোবাসা।

"The power of suffering is infinitely greater than the power of doing; the power of love is infinitely of greater potency than the power of hatred." 


-Swami Vivekananda

("সহ্য করিবার শক্তি কর্ম করিবার শক্তি অপেক্ষা অনন্ত গুণ অধিক; প্রেমের শক্তি ঘৃণা অপেক্ষা অনন্ত গুণ শক্তিশালী।"

— স্বামী বিবেকানন্দ বাণী ও রচনা, চতুর্থ খণ্ড)

 

ভারতবর্ষ সম্পর্কে এই অসাধারণ কথা স্বামীজি বললেন।

ভারতবর্ষের আদর্শ কখনোই নষ্ট হবে না। 

তিনি আমেরিকার ইউরোপ ঘুরে প্রথম যখন ভারতবর্ষে গিয়ে পৌঁছলেন। তার সেই প্রথম বক্তিতা যখন তিনি দিচ্ছেন " Lecture from Colombo to Almora."

এই বইতে রয়েছে, তিনি বলছেন - Today I stand here to say with the conviction of the truth, that every word I have said about the uplift of our motherland is true. I may not see it, but you will see it. The mission of this race will be fulfilled."


আজ আমি ভারতবর্ষের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে সত্য জেনে আমি তা বলতে চাই - এই পূণ্যভূমি, আমাদের মাতৃভূমির উত্থান সম্পর্কে আমি যা যা বলেছি তার প্রতিটি শব্দ সত্য। আমি হয়তো তা দেখে যেতে পারব না, কিন্তু তোমরা তা দেখবে। এই জাতির যে মহান উদ্দেশ্য (Mission), তা একদিন পূর্ণ হবেই।"

 


"If there is any land on this earth that can lay claim to be the blessed Punya Bhumi, to be the land to which every soul that is wending its way Godward must come to attain its last home... it is India.

​Formerly, I thought, as every Hindu thinks, that this is the Punya Bhumi, the land of Karma. Today I stand here and say, with the conviction of truth, that it is so."


পৃথিবীতে যদি এমন কোনো দেশ থাকে, যাকে পুণ্যভূমি বলে দাবি করা যায়... তবে তা এই ভারতবর্ষ।


​পূর্বে আমি মনে করতাম—যেমন প্রত্যেক হিন্দু মনে করিয়া থাকে—যে, ইহা পুণ্যভূমি, ইহা কর্মভূমি। আজ আমি এখানে দাঁড়াইয়া সত্যের উপলব্ধির সহিত বলিতেছি যে, ইহা বাস্তবিকই তাই।"


ভারতবর্ষকে আমরা যে দৃষ্টিতে দেখি সেটা সম্পূর্ণ বদলে যায়, যখন আমরা স্বামী বিবেকানন্দের লেখা পড়ি।

স্বামীজিকে সে কারণে জানতে হয়।


যখন স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলতেন, তখন ভারতবর্ষের প্রতি তার ভালোবাসা প্রকাশ পেত।


তার সেই ভালোবাসা আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের বহু মানুষের মন স্পর্শ করে ছিল।

ভাবলে অবাক লাগে, ইংল্যান্ড থেকে লোকেরা ঘর বাড়ি, সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে, সেই টাকা নিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে চলে আসছেন ভারতবর্ষে থাকবেন, ভারতকে সেবা করবেন বলে।

কে সেই মানুষটি! ব্রিটিশ সৈন্য বাহিনীর ক্যাপ্টেন জেমস হেনরি সেভিয়ার (Captain James Henry Sevier)। 

তিনি ব্রিটিশ সৈন্য বাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী শার্লট সেভিয়ার বা 'মিসেস সেভিয়ার' (১৮৪৭ - ২০ অক্টোবর ১৯৩০) সব সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতবর্ষে চলে এলেন।

ঠান্ডা দেশের মানুষ তারা কলকাতা বা বম্বে থাকতে পারবেন না বুঝে স্বামীজি তাদের হিমালয়ে গিয়ে থাকতে বললেন।


সেখানে তারা জমি কিনে একটি বেদান্ত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। সেটাই এখন বিখ্যাত 'মায়াবতী আশ্রম'। ক্যাপ্টেন সেভিয়ার ও মিসেস সেভিয়ার এটি তৈরি করেন।

ভেবে দেখুন, তখন ব্রিটিশ যুগ। ব্রিটিশ সৈন্য বাহিনীর ক্যাপ্টেন, অফিসার, তিনি ঐ ব্রিটিশদের মধ্যে থেকে একজন ভারতীয়কে প্রণাম করছেন, তার পায়ে মাথা রেখে প্রণাম করছেন।

তার স্ত্রী স্বামীজির জন্য রান্না করছেন, ঘরের সমস্ত কাজ করে দিচ্ছেন। তাকে সেবা করবার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরছেন। 

কেন এটা সম্ভব হয়েছিল!

স্বামী বিবেকানন্দ তাদের মনের মধ্যে এই সত্যিকারের ভারতবর্ষকে দেখিয়েছিলেন। রাজনৈতিক ভারতবর্ষ নয়।

এই যে ভারতবর্ষ, সেটি চিরন্তন ভারতবর্ষ।


Hence have started the founders of religions from the most ancient times, deluging the earth again and again with the pure and perennial waters of spiritual truth. Hence have proceeded the tidal waves of philosophy that have covered the earth, East or West, North or South, and hence again must start the wave which is going to spiritualise the material civilisation of the world. Here is the life - giving water with which must be quenched the burning fire of materialism which is burning the core of the hearts of millions in other lands. Believe me, my friends, this is going to be.

- swami vivekananda


এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ।

অতীতকে স্মরণ করে বললেন, এই দেশ থেকেই আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে পড়েছিল সমস্ত পৃথিবী জুড়ে। 

আবার বিশ্বাস কর, আবার সেটিই হবে। ভারতবর্ষ যখনই পৃথিবীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তখনই যে উপহার বিশ্বকে দিয়েছে সেটি হল তার - আধ্যাত্মিকতা। 

আবার ভারতবর্ষ দেবে।


"Believe me, my friends, this is going to be."


এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ।

ছোট বেলা স্কুলে সবাই গাইতাম -

"বল বল বল সবে,

শত বীণা বেণু রবে,

ভারত আবার জগত সভায় 

শ্রেষ্ঠ আসন লবে।"


কিন্তু কেমন করে!


 শ্রেষ্ঠ আসন পেতে হলে, স্বামী বিবেকানন্দকে ধরে থাকতে হবে। না হলে পারবো না।

স্বামীজিই হচ্ছেন সেই condence inner.


প্রফেসর ম্যাক্স মুলার একবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে ভারতবর্ষ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।

কবি বলেছিলেন - 

 “If you want to know India, study Vivekananda. In him everything is positive and nothing negative.”


এই ভারতবর্ষকে যদি জানতে হয় তাহলে একমাত্র বিবেকানন্দকে বুঝতে হবে। বিবেকানন্দকে জানতে হবে। কারণ তার মধ্যেই রয়েছে সেই গুণটি, যেখানে negative কিছু নেই। সবটাই positive.


বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথের অনেক আগেও এ প্রসঙ্গে কি বলা হয়েছে, দেখা যাক।


যিশু খ্রিস্টের জন্মের চারশো বছর আগে গ্রীক পন্ডিত মেগাস্থিনিস তিনি

মৌর্য রাজ্য পাটলীপুত্রে এসেছিলেন।

যেটা এখন পাটনা। তার লেখা থেকে ভারতের যে ছবি দেখি তা এক কথায় অসাধারণ।


চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের মৌর্য রাজসভায় গ্রীক রাষ্ট্রদূত মেগাস্থিনিস (আনুমানিক ৩০২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, "সমস্ত ভারতীয় স্বাধীন, এবং তাদের কেউই দাস নয়"। 


All Indians are free, and not any of them is a slave". 


তিনি আসছেন গ্রীক থেকে। সেখানে দাসপ্রথা ছিল। তারা সে সময় বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে যুদ্ধ করে বন্দিদের ধরে এনে দাস করে রাখতো।


সেই দেশ থেকে যখন ভারতবর্ষে ঘুরতে এসে দেখলেন, রাজা, পন্ডিত, সাধারণ মানুষও কত খোলামেলা। তিনি অবাক হয়ে যে শব্দটি তার ডায়রিতে লিখলেন -

"All Indians are free . And none of them are slaves. They fell happily that is because of there spirituality and simplicity. They love beauty. India respect virtue and truth."

(“সব ভারতীয়ই স্বাধীন এবং তাদের কেউই দাস নয়। তারা সুখে বাস করে, কারণ তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা ও সরলতা আছে। তারা সৌন্দর্যকে ভালোবাসে। ভারত গুণী ও সত্যকে সম্মান করে।”)


"India respect virtue and truth."


এখন নিজেদের সমাজের দিকে তাকালে, নিজেদেরই লজ্জা করে।

কোথায় হারিয়ে গেল সব!


আগে দেখা যেত আমাদের বাপ দাদারা মারা যাওয়ার সময় ভগবানের নাম করার আগে, ছেলে বা কাউকে ডেকে বলতেন, - "দেখ, আমি ওমুকের কাছ থেকে পাঁচটা টাকা নিয়েছিলাম, ধার আছে। ওটা কিন্তু শোধ করে দিও। নইলে আমার আত্মা মুক্তি পাবে না।"


এই যে সততা ছিল ভারতবাসীর মধ্যে, এই কিছু দিন আগে! 

সেটা কোথায় হারিয়ে গেল! 

কেন হারিয়ে গেল! 

কি করে সেটা ফেরত পাবো! 


এই সততা যদি না থাকে, তাহলে যে মানুষ গুলো থাকে, তারা মানুষের শরীরে পশু ছাড়া তো আর কিছু না!


সে জন্য ভর্তৃহরি, তিনি এই মানুষগুলি সম্পর্কে বলছেন -

যাদের জীবনের কোন উদ্দেশ্য নেই। শুধু খাওয়া, থাকা আর শারীরিক আনন্দের জন্য বাঁচে। তাদের কি মানুষ বলা যাবে! আমি জানি না।

ভর্তৃহরি বলছেন - এদের কি আর মানুষ বলা যায়!


(ভর্তৃহরির নীতিশতকম্ বা অন্যান্য কাব্যে মানুষের জীবনের উচ্চতর উদ্দেশ্য (জ্ঞান, ধর্ম, নীতি) অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

তাঁর মতে, যারা কেবল আহার, নিদ্রা, ভয় ও যৌনসুখের (শারীরিক আনন্দ) মধ্যে জীবন সীমাবদ্ধ রাখে, তারা পশুতুল্য। 

প্রকৃত মানুষ হতে হলে বিবেক ও জ্ঞান থাকা আবশ্যক।)


(ভর্তৃহরি (Bhartrihari) ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত, কবি এবং ব্যাকরণবিদ, যিনি আনুমানিক পঞ্চম শতাব্দীর কাছাকাছি সময়ে জীবিত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি তার রচিত নীতি, শৃঙ্গার ও বৈরাগ্য—এই তিন শতক (শতকত্রয়) এবং ব্যাকরণ গ্রন্থ 'বাক্যপদীয়'-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।)


স্বামীজিও সে কথাই বলছেন।

আর প্রমাণ ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ।

যিশু খ্রিস্টের চারশো বছর আগে। আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভারতবর্ষের মানুষ এরকম ছিল।


জার্মান দার্শনিক বা চিন্তাবিদ ক্রিস্টিয়ান ডোম (Christian Dohm) ভারত সম্পর্কে বলেছেন - India the birth place of civilization.  ভারত সভ্যতার জন্মস্থান।


ফরাসি দার্শনিক এবং ঐতিহাসিক ভলতেয়ার (Voltaire) ভারত সম্পর্কে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন:

"I am convinced that everything has come down to us from the banks of the Ganges, astronomy, astrology, metempsychosis [transmigration of souls/reincarnation], etc."


(আমি নিশ্চিত যে সবকিছু গঙ্গার তীর থেকে আমাদের কাছে এসেছে - জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, জন্মান্তরবাদ ইত্যাদি)।  


স্বামীজি ভারতবর্ষকে "দেশ" হিসেবে দেখছেন না। তিনি দেখছেন "দেবতা" হিসেবে।


#swamilshatmananda 

#Ishatmananda 


https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1

Saturday, February 28, 2026

Love India - Swami VIVEKANANDA

স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো" আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


 স্বামী বিবেকানন্দের এক অসাধারণ উত্তর - "আমাকে খুশি করতে চাইলে ভারতবর্ষকে ভালোবাসো।" 

এখন আমাদের ভারতবর্ষ সম্পর্কে একটু জানা দরকার। ভারতবর্ষ একটা দেশ, কিন্তু দুটি নাম। 

Article 1(1) of the Indian Constitution, "India, that is Bharat, shall be a Union of States" 

একটাই দেশ, কিন্তু দুটি নাম। 

স্বামী বিবেকানন্দ যখন বললেন - "Love India." 

আমরা তখন অনুভব করলাম - 'ভারতকে ভালোবাসো।' আমরা দুটো নামের উল্লেখ করলাম। 

India, that is Bharat. 

কিন্তু স্বামীজি কি সত্যি সত্যি এই geographical land ভৌগলিক ভূমি, তার সম্বন্ধে বললেন! 
সেটাই প্রশ্ন। 

আমরা এখন দেখবো হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন scripture ধর্মশাস্ত্রে আর এক নাম আমরা পাই 'জম্বুদ্বীপ' Jambudvipa. 

পুরাণে যে সাতটি মহাদেশের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে 'জম্বুদ্বীপ' একটি। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি 'জম্বুদ্বীপ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 

বিষ্ণু পুরাণে এসে সেই জম্বুদ্বীপ হয়ে গেল 'ভারত'। 

এই বিষ্ণু পুরাণে ভারতের সীমা সম্পর্কে বলছে-

 উত্তরং যৎ সমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্। 
বর্ষং তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ।। 


(অর্থ - সমুদ্রের উত্তরে এবং হিমালয়ের দক্ষিণে যে দেশ অবস্থিত, তাকে 'ভারতবর্ষ' বলা হয়। সেখানে ভরত রাজার সন্তানরা বসবাস করেন।)

 মহা সমুদ্রের উত্তরে‌ যে স্থান ও হিমালয়ের দক্ষিণে যে স্থান - সেটাই ভারতবর্ষ। সেখানে যারা থাকেন, তাদের বলা হয় ভারতী। 

ভারত নাম এল কি করে! 
এ‌ সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়। 

এক জায়গায় বলছে আরবি মশলাকে বলত - বাহারাত (Baharat)। এই মশলার জন্য আরবিরা ভারতবর্ষে আসত। সেই 'বরহা' অর্থাৎ মশলা থেকেই ধিরে ধিরে ভারত নাম এসেছে, মনে করা হয়। [আরবি শব্দ Bahārāt (بهارات) হলো bahār (মশলা) শব্দের বহুবচন। 

এর মূল সংস্কৃত শব্দ 'ভারত'(Bharat) থেকে এসেছে, যা দীর্ঘকাল ধরে ভারতের সুগন্ধি বা মশলা বাণিজ্যের সাথে যুক্ত ছিল।] 

ঋক বেদে আছে- ভারতবর্ষের লোকেরা 'battles of eighteen ' এ অংশ গ্রহণ করেছিল। [The Battle of the Ten Kings (Sanskrit: दाशराज्ञयुद्धम्, IAST: Dāśarājñá yuddhá)।] 

ভারতবর্ষের নাম আমরা খুব প্রাচীন ঋকবেদেও পাই। 
সংস্কৃতে 'ভার' (भार) শব্দের অর্থ ওজন। 
বর্ষ মানে portion of land. (অন্যান্য অর্থে 'বর্ষ' মানে বৎসর (Year) বা বৃষ্টি।) যে দেশের লোকেরা ভার বহন করে। 

কি ভার বহন করে! অগ্নির ভার। 
আমাদের দেশে অগ্নিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হত। অগ্নিকে খুব সন্মান করা হত। এই অগ্নির ভার যেখানের মানুষরা বহন করছে, সেই স্থানই ভারতবর্ষ। এখনও দক্ষিণ ভারতের কিছু পরিবারের নিয়ম আছে, যখন বিয়ে হয়, তখন বাড়িতে যে আগুন থাকে সেই আগুন থেকে নতুন স্বামী স্ত্রী দম্পতিকে আগুন দেওয়া হয়। সেই আগুন থেকে বিয়ের যজ্ঞের আগুন জ্বলে। সেই আগুন নিয়ে স্বামী স্ত্রীর নতুন সংসার শুরু করে। তখন সেই আগুন প্রজ্জ্বলিত রাখার দায়িত্ব তাদের। সে জন্য অগ্নি চয়ন ও তার রক্ষা গৃহস্থের কর্তব্য। সেই দম্পতির মধ্যে কেউ একজন মারা গেলে তখন গৃহে সংরক্ষিত আগুন থেকেই অগ্নি নিয়ে তার মুখাগ্নি করা হত। চিতাতেও আগুন দেওয়া হত। এভাবে আগুনকে সদা সর্বদা বহন করা হত।

 সেই replica প্রতিরূপ এখনও দেখা যায়। সব মন্দিরে এখনো সব সময় একটা দীপ বা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। আগুন আবিষ্কারের পর ভারতবর্ষের মানুষ তার সাহায্যে অত্যন্ত উন্নতি করে। সেই অগ্নির ভার বহন করা থেকেও ভারতবর্ষ নাম আসতে পারে। 

বায়ু পুরাণে বলা হয়েছে - যিনি ভারতবর্ষকে জয় করতে পারবেন, তাকেই সম্রাট আক্ষ্যা দেওয়া হবে। 
এভাবে দেখা যাচ্ছে অত্যন্ত পুরনো গ্রন্থেও "ভারতবর্ষ" নাম পাওয়া যাচ্ছে। 

আর সবাই যেটা মেনে নিয়েছে, সেটা হল - রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র ভরতের থেকেই ভারতবর্ষ নাম এসেছে। 

রাজা দুষ্মন্ত ছিলেন ক্ষত্রিয়। আর শকুন্তলার বাবা ছিলেন ঋষি বিশ্বামিত্র ও মা ছিলেন অপ্সরা মেনকা। জন্মের পর তার বাবা মা তাকে রেখে চলে যান, পাখিরা তাকে রক্ষা করে।

 পাখি অর্থাৎ শকুনরা (শকুন কথার অর্থ পাখি। পরে সেটা একটি নির্দিষ্ট পাখি বোঝায়। ব্যুৎপত্তি: 'শকুন্ত' বা শকুন্তল (পাখি/শকুন জাতীয় পাখি) দ্বারা পালিত। শকুন্ত (পাখি) পাখিরা তাকে রক্ষা করে, তাই মহর্ষি কণ্ব নাম রাখেন 'শকুন্তলা'। এটি কোনো নির্দিষ্ট পাখির নাম নয়, বরং "পাখি দ্বারা পালিত" অর্থে ব্যুৎপন্ন একটি নাম, যা পরে ঋষি কণ্বের পালিতা কন্যা শকুন্তলা।) তাকে ডানা মেলে ছায়া দিয়ে রক্ষা করছিল। সে স্থান দিয়ে আরেক ঋষি যাওয়ার সময় শিশুটিকে তুলে নিয়ে যান এবং নাম দেন - শকুন্তলা। 

শকুন্তলা অত্যন্ত সুন্দরী ও অতি সুশীল কন্যা। পরবর্তী কালে তার রাজা দুষ্মন্তের সাথে বিবাহ হয়। দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র হলেন - ভরত। 


এই ভরত পিতা মাতা দুজনের থেকে অসাধারণ গুণ পেয়েছিলেন। ক্ষত্রিয় বাবার কাছ থেকে - বীরত্ব ও সেবা। মায়ের কাছ থেকে - পবিত্রতা ও ত্যাগ। ঋষিদের পবিত্রতা ও ত্যাগ এবং ক্ষত্রিয় রাজাদের বীরত্ব ও সেবা - এই দু ধরনের ভাবই রাজা ভরতের মধ্যে ছিল। 

স্বামী বিবেকানন্দ পরবর্তী কালে এই ভারতবর্ষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বললেন যে - ভারতের আদর্শ হচ্ছে, ত্যাগ ও সেবা। এ দুটিই আমরা ভরতের মধ্যে পাই।


 সংস্কৃতে ইন্দু মানে চাঁদ। এই চাঁদকে বলা হয় সোম বা অমৃত। এই দেশটি এত সুন্দর ও মধুর, সেজন্য 'ইন্ডিয়া' নামটি সেখান থেকে এসেছে। 

গ্রিকদের একটা শব্দ ছিল - ইভিয়া, যার অর্থ island, আইল্যান্ড। নদী ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী দেশ তাকে তারা বলতো আইল্যান্ড দ্বীপ । তাকে গ্রীক ভাষায় বলছে ইভিয়া। সেটাই ল্যাটিনে হয়ে যাচ্ছে - ইন্ডিয়া। (প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের বলত ইন্দোই (Ινδοί), বা 'ইন্দাস' (সিন্ধু) নদী অববাহিকার অধিবাসী। 'ইন্দাস' নাম থেকেই 'ইন্ডিয়া' নামটির উতপত্তি।) গ্রীক traveler হেরোডোটাস, তিনি এই ইন্ডিয়া ল্যান্ড শব্দটি ব্যবহার করেছেন, খুব পরিষ্কার ভাবে ভারতবর্ষ সম্পর্কে। 


ব্রিটিশ যখন ভারতে এল তখন কিং রাজা আলফ্রেড ইন্ডিয়া উল্লেখ করলেন, তখন থেকেই ভারতবর্ষের অফিসিয়াল নাম 'ইন্ডিয়া' হয়ে গেল। 

এই ইন্ডিয়া ও ভারতবর্ষের আরেকটি নাম আছে - হিন্দুস্তান। স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন এই হিন্দুস্তান শব্দটি কোথায় থেকে এল! পার্সিয়ানরা মশলা কেনার জন্য যখন এদিকে আসত, তখন তারা একটি নদী পার হত। তার নাম - সিন্ধু। সিন্ধুনদ যখন তারা পার হত, তখন সিন্ধু শব্দটি ঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারত না। তাদের ভাষায় 'স' হয়ে যেত 'হ'। ফলে সিন্ধু হয়ে যেত হিন্দু। ফলে স্থানটির নাম হয়ে গেল - হিন্দুস্থান।

 ভাষা হল - হিন্দুস্থানী। ধর্ম হয়ে গেল - হিন্দু ধর্ম। 
এই পার্সিয়ানদের থেকে এটা জনপ্রিয় হয়ে গেল। এভাবে ভারতবর্ষের আরেক নাম হল - হিন্দুস্থান। 

আমাদের এই অসাধারণ দেশের লোকেরা, নাগরিকেরা বিদেশে নিজেদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন - we are Indian's. আবার যখন দেশে পরিচয় দেয়, তখন বলে - ভারতবর্ষ। আর খুব যখন আনন্দ হয়, তখন শ্লোগান দেয় - "জয় হিন্দ"। 

এই যে 'ভারতবর্ষ', এই যে 'ইন্ডিয়া', এই যে 'হিন্দ' - স্বামী বিবেকানন্দ কি একেই নির্দেশ করছেন! 

মার্কিন বন্ধু এবং ভক্ত জোসেফিন ম্যাকলিওড (১৮৫৮-১৯৪৯), যখন স্বামীজিকে জিজ্ঞেস করলেন - কি করলে আপনি খুশি হবেন! 
তখন স্বামী বিবেকানন্দ বললেন - "Love India ". 

স্বামীজি কি কেবল এই ভূখণ্ডকেই কেবল নির্দেশ করলেন!

 না। 
তিনি Love India বলতে বুঝিয়েছেন সেই চিরন্তন ভারতবর্ষ এবং আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষকে। 

এবার জানতে হবে 'আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষ' কাকে বলে। 

আমি এই দেশে জন্মেছি বলে ভারতবর্ষকে ভালবাসছি, তা নয়। Geographical boundary ভৌগলিক সীমানা পরিবর্তন হয়েই যাচ্ছে সব সময়। আগে ভারতবর্ষের সীমা কি ছিল, এখন কি হয়েছে! 
সুতরাং এই সীমাবদ্ধ ভারতবর্ষের কথা স্বামীজি বলছেন না। ভারতবর্ষকে ভালোবাসো যখন বলছেন তখন এই চিরন্তন সত্য যে ভারতবর্ষে আবিষ্কার হয়েছিল, তাকে বলছেন।

 সুপ্রাচীন ভারতে ঋষিরা যে ধর্ম জ্ঞান লাভ করেছিলেন, যে সত্য ভারতবর্ষ হাজার হাজার বছর ধরে ধরে রেখেছে, অভ্যাস করেছে, মানবজীবনের চুড়ান্ত স্বার্থকতায় পৌঁছেছে, তাকেই প্রণাম করেছেন। এবং সেই আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষকেই ভালোবাসতে বলেছেন। 

Love India - not the geography but ideology and philosophy of India. 


#swamilshatmananda

 #Ishatmananda

 https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1"

 

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers