স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"
আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ
স্বামী বিবেকানন্দ যখন বললেন -
"My India, my country."
এই যে
"ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি নিজেদের দিকে তাকাই, আমরা কি করতে পারি।
এটা নিজের প্রশ্ন করতে হবে।
আমি কি করতে পারি!
কেমন করে আমি ভারতবর্ষকে ভালোবাসতে পারি।
যদি আমরা বর্তমান যুগের পরিস্থিতিতে দেখি সেখানে আর্থ সামাজিক অবস্থাটা এমন একটা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে আমরা অসহায় বোধ করছি।
ভারতবর্ষকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা হিমালয়কে দেবতা বলে।
সমুদ্রকেও দেবতা বলে।
কেন হিমালয়কে দেবতা বলে!
অনেকের ধারণা হিমালয়ে সব দেবতারা থাকেন। মা দুর্গার বাপের বাড়ি হিমালয়ে। এবং ইত্যাদি ইত্যাদি।
ঋষি মুনিরাও হিমালয়ে থাকেন। এসব ঠিকই।
কিন্তু আসল কারণটা কি!
জানলে অবাক লাগবে, হিমালয় আমাদের ভারতবর্ষকে চিন থেকে যে প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়া আসছে তাকে বন্ধ করে তীব্র ঠাণ্ডা হাওয়া থেকে পিঠ দিয়ে রক্ষা করছে।
আবার দক্ষিণে মহা সমুদ্র থেকে জলকণা নিয়ে যে বাতাস বয়ে চলে যাচ্ছে উত্তরের দিকে, সেটাকে থামিয়ে তার থেকে বৃষ্টি সৃষ্টি করে এই হিমালয় সারা ভারতবর্ষকে উর্বর করে তুলছে। আমাদের নদীগুলোও সে কারণে প্রচুর সাহায্য করছে।
সে কারণে আমাদের পুজোতে প্রথমেই নদীদের নাম ধরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
যে কোন পুজোয় যে জল ব্যবহার করা হয় সেটাতে আঙ্গুল ডুবিয়ে পুরোহিতরা বলেন -
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।
(অর্থ - হে গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু ও কাবেরী নদীগণ, আপনারা এই স্নানের জলে (বা পূজার জলে) এসে উপস্থিত হোন বা অধিষ্ঠান করুন। )
এই সাতটি নদীর নাম বলা হয়। এত সুন্দর করে বলছেন, মনে হয় সংস্কৃত মন্ত্র বললেন।
আসলে সাতটি নদীর নাম করলেন।
কেন!
আরো অনেক নদীও আছে। তবে এই সাতটি নদী ভারতবর্ষের মাটিকে খুবই উর্বর করে তুলেছে। সে জন্য ভারতবর্ষে কোনদিন খাদ্যের অভাব হত না।
এই হিমালয় আমাদের এতটা সাহায্য করে বলে, যদিও এটা পাহাড় তবুও আমরা তাকে দেবতার সন্মান দিই।
সমুদ্র আমাদের রক্ষা করে বিদেশী আক্রমণ থেকে। এছাড়া এই সমুদ্রের জল বাষ্প হয়ে মেঘ সৃষ্টি করে বৃষ্টির মাধ্যমে আমাদের সাহায্য করে। সে কারণে সমুদ্রকে দেবতা মান্য করি এবং নদীগুলোকে পুজো করি।
গাছ থেকে অক্সিজেন পাই বলে গাছকে পুজো করি।
পশুপাখিদের থেকেও সাহায্য পাই বলে, তাদেরও পুজো করি।
কেন করি!
কারণ কৃতজ্ঞতা।
মানুষ যদি কৃতজ্ঞ না থাকে তাহলে আর মানুষ থাকে না।
#swamilshatmananda
#Ishatmananda
https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1
..........................
India's Awakening
It was in 1897 that Swamiji told the people: 'For the next fifty years let Mother India be your God. Serve your country as you would serve God, and India will awaken!"
Not long after that, men and women sacrificed their homes, their wealth, and even their lives for their country's freedom.
From 1897 to 1947 is exactly fifty years. Fifty years after Swamiji spoke those words, India achieved independence from British rule. It was the first great step of the awakening Swamiji had described. Without political independence the national awakening could not come, for freedom is essential to growth and development.
Swamiji said that political ideals and political leaders have no real power in India; nor have social ideals or commercial ideals. The only ideal that has real and lasting power in India is the ideal that is based on inner strength. It is a spiritual ideal that says that the soul of man is more powerful than anything else. That is India's national ideal, and when she puts this ideal into practice in her daily life, she will be strong and powerful.
If it is true that the soul of man is more powerful than anything else, then this ideal is true for all people everywhere. So Swamiji said that Indians should now go out into the world and mix with other nations and tell them about this great ideal.
When Indians do that, then will come the awakening of India that Swamiji spoke about. Using the great power that lies in the soul of men, India will spread peacefully throughout the world the equality and justice and sharing of benefits that so many people are now fighting for.
ভারতের জাগরণ
১৮৯৭ সালে স্বামীজী জনগণকে বলেছিলেন: 'আগামী পঞ্চাশ বছর ধরে ভারত মাতাকে তোমাদের ঈশ্বর হিসেবে গ্রহণ করো। তোমাদের দেশকে ঈশ্বরের সেবা করার মতো সেবা করো, তাহলে ভারত জেগে উঠবে!'
এর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, পুরুষ ও মহিলারা তাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য তাদের ঘরবাড়ি, তাদের সম্পদ এমনকি তাদের জীবনও উৎসর্গ করেছিলেন।
১৮৯৭ থেকে ১৯৪৭ সাল ঠিক পঞ্চাশ বছর। স্বামীজীর এই কথাগুলো বলার পঞ্চাশ বছর পর, ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। এটি ছিল স্বামীজীর বর্ণিত জাগরণের প্রথম মহান পদক্ষেপ। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া জাতীয় জাগরণ আসতে পারত না, কারণ স্বাধীনতা বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
স্বামীজি বলেছিলেন যে ভারতে রাজনৈতিক আদর্শ এবং রাজনৈতিক নেতাদের কোনও প্রকৃত শক্তি নেই; সামাজিক আদর্শ বা বাণিজ্যিক আদর্শও নেই। ভারতে একমাত্র আদর্শের প্রকৃত এবং স্থায়ী শক্তি হল সেই আদর্শ যা অভ্যন্তরীণ শক্তির উপর ভিত্তি করে।
এটি একটি আধ্যাত্মিক আদর্শ যা বলে যে মানুষের আত্মা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী। এটি ভারতের জাতীয় আদর্শ, এবং যখন সে তার দৈনন্দিন জীবনে এই আদর্শকে বাস্তবায়িত করে, তখনই সে শক্তিশালী হবে।
যদি এটা সত্য হয় যে মানুষের আত্মা অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি শক্তিশালী, তাহলে এই আদর্শ সর্বত্রের সকল মানুষের জন্য সত্য। তাই স্বামীজি বলেছিলেন যে ভারতীয়দের এখন বিশ্বের কাছে যাওয়া উচিত এবং অন্যান্য জাতির সাথে মিশে যাওয়া উচিত এবং তাদের এই মহান আদর্শ সম্পর্কে বলা উচিত।
যখন ভারতীয়রা তা করবে, তখন স্বামীজি যে ভারতের কথা বলেছিলেন তার জাগরণ আসবে। মানুষের আত্মার মধ্যে যে মহান শক্তি নিহিত আছে তা ব্যবহার করে, ভারত শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্বজুড়ে সেই সাম্য, ন্যায়বিচার এবং সুবিধার ভাগাভাগি ছড়িয়ে দেবে যার জন্য এত মানুষ এখন লড়াই করছে।
.................
Get up O my brethren Get up with your ancient glory.
See Swamiji by your side Shake off all your vague weakness.
Remember your real nature That you are as pure as Father in Heaven
Swamiji please hold our hands; Give us courage to fill up our hearts, Weeping at your lotus feet millions of your countrymen.
Get up O my brethren.... get up With your ancient glory
We have renounced the World And have taken up saffron flag Now waiting for your order O Swamiji our Leader
We will destroy which is evil, And will build up our World As happy as Heaven
Swamiji please hold our hands;
Give us courage to fill up our hearts Weeping at your lotus feet Millions of your countrymen.
Get up O my brethren Get up with your ancient glory.
With heartfelt gratitude -Song written and sung by Rev.Maharaj IshatmanandaJi in reverence to Swami Vivekananda
উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ,
উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।
দেখো, স্বামীজি তোমাদের পাশে আছেন,
তোমাদের সব অস্পষ্ট দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলো।
স্মরণ করো তোমাদের প্রকৃত স্বরূপ—
তোমরা স্বর্গের পিতার মতোই পবিত্র।
স্বামীজি, দয়া করে আমাদের হাত ধরুন;
আমাদের হৃদয় সাহসে ভরিয়ে দিন।
আপনার পদপদ্মে অশ্রুসজল হয়ে
কোটি কোটি দেশবাসী প্রার্থনা জানাচ্ছে।
উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ…
উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।
আমরা সংসার ত্যাগ করেছি,
উত্তোলন করেছি গেরুয়া পতাকা।
হে স্বামীজি, আমাদের নেতা,
এখন আমরা আপনার আদেশের অপেক্ষায়।
আমরা ধ্বংস করব সব অশুভকে,
আর গড়ে তুলব এমন এক বিশ্ব
যা হবে স্বর্গের মতো সুখময়।
স্বামীজি, দয়া করে আমাদের হাত ধরুন;
আমাদের হৃদয় সাহসে ভরিয়ে দিন।
আপনার পদপদ্মে অশ্রুসজল হয়ে
কোটি কোটি দেশবাসী প্রার্থনা জানাচ্ছে।
উঠে দাঁড়াও হে আমার ভ্রাতৃগণ,
উঠে দাঁড়াও তোমাদের প্রাচীন মহিমা নিয়ে।
---
গানটি রচনা করেছেন Rev. Maharaj Ishatmananda, গভীর শ্রদ্ধায় Swami Vivekananda-কে উদ্দেশ করে।

No comments:
Post a Comment