Blog Archive

Sunday, April 12, 2026

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ 


ভারতের মানুষ হিমালয়, পর্বত, সমুদ্র, নদী, গাছপালা, জীবজন্তু সকলকে পুজো করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য।

মানুষ যদি কৃতজ্ঞ না থাকে তাহলে সে আর মানুষ থাকে না।

শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা ভারতবাসীর প্রথম শিক্ষা।

এই শিক্ষার উপর, জ্ঞানের উপর খুব জোড় দেওয়া হচ্ছে ।


যতই টাকা পয়সা থাক, যদি তার শিক্ষা না থাকে, সংস্কৃতি না থাকে - ভারতবর্ষ তাকে ভাল চোখে দেখে না। শূন্য দৃষ্টিতে দেখে, চলে যায়।

যার শিক্ষা আছে, সংস্কৃতি আছে সে খুব সাধারণ মানুষ হলেও তাকে খুব মর্যাদা দিয়ে থাকে।

কেন! 

ভারতবর্ষ শিক্ষার উপর খুব জোড় দিয়ে থাকে।


ভারতবর্ষের জনপ্রিয় দেবী হচ্ছেন - মা দুর্গা।

দূর্গা শব্দটি এসেছে, মা দুর্গম নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন বলে।


কি করেছিল দুর্গম অসুর!

দুর্গম ক্ষমতা পেয়ে পড়াশোনা, শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল।

দেবতাদের হারিয়ে তাদের রাজ্য দখল করে সে যেটা করল, কাউকে পড়াশোনা করতে দেবে না।

তার ফলে মানুষ ধিরে ধিরে দুর্বল হয়ে পড়ছিল।

জ্ঞান বুদ্ধি না থাকলে, সে তো দুর্বল হবেই।

যার প্রচন্ড গায়ে শক্তি, কিন্তু জ্ঞান নেই - তাকে খুব সহজে control নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


তাই দুর্গম যখন এরকম করছে, তখন কিছু দিন পর ব্রাহ্মণেরা দেবতাদের সাথে শিবের কাছে গিয়ে সব বললেন।


শিব সব শুনে তার শক্তি দেবী দুর্গার সাথে কথা বলতে বললেন।


মা দুর্গা দুটি জিনিস করলেন। 

প্রথমে সকলকে খেতে দিলেন। 

কারণ খেতে না দিলে, শক্তি না হলে কোন কিছু করতে পারবে না।


ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেবের কথায় - "খালি পেটে ধর্ম হয় না।"


প্রথম হচ্ছে economy development অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পর যখন তারা স্থিতিশীল হল তার পর দুর্গা অসুর দুর্গমের সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত করলেন। তার পর আবার সবার মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বাললেন।


ভারতবর্ষের শক্তি কি!

জ্ঞান। 

এই জ্ঞান চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন পৌঁছায় তখন আমাদের শেখায় প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে চৈতন্য রয়েছে।

এই "প্রতিটি প্রাণীতে চৈতন্য।" এই জ্ঞান আমাদের বেদ শিখিয়েছে।


বেদ অর্থাৎ জ্ঞান।

এই জ্ঞানের ভিত্তিতেই হিন্দু ধর্ম। 

আর হিন্দু ধর্মটাই আমাদের সমাজ।

ধর্ম ছাড়া আমাদের সমাজ নেই। 

কিন্তু এই ধর্ম আমাদের narrow minded সংকীর্ণ মনের করছে না, উদার করছে।

সে জন্যই স্বামীজি বলছেন - "ভারতবর্ষকে ভালোবাসো"। 

মানে ভারতবর্ষের ইতিহাসটাকে জানতে হবে। ভারতবর্ষের philosophy দর্শনটা জানতে হবে।


ধর্ম সেটা নির্ভর করে সেই দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থান উপর। Economical and social condition এর উপর।

ভারতবর্ষ যেহেতু অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক উন্নত ছিল, তাই আমরা কখনো বলিনি, আমরা স্বর্গে যাবো।


ভারতবর্ষ স্বর্গ নিয়ে চিন্তা করে না। বরং স্বর্গটাকে বলে, ওটা মাঝপথে পরছে।

এই যে ভারতবর্ষ, যার সম্পর্কে স্বামীজি বলছেন, - যদি কেউ মুক্তি পেতে চায়, তাহলে তাকে এই ভারতবর্ষে জন্মগ্রহণ করতে হবে। 


পৃথিবীতে আসতেই হবে। আর পৃথিবীর মধ্যে এই ভারতবর্ষ সব সময় কর্মের উপর জোড় দিচ্ছে। 


এই কর্ম আমরা কি করে করি!

আমরা তিন ভাবে কর্ম করি।

চিন্তার মাধ্যমে কর্ম।

মুখ দিয়ে বলে, বাক্যের মাধ্যমে কর্ম।

আর হাত পা দিয়েও আমরা কর্ম করি।


কর্ম হচ্ছে - কায়িক, বাচিক ও মানসিক।

এই তিন ভাবে কর্ম করি।


কর্মের ফলটা আমাদের বদ্ধ করে।

কি করে বদ্ধ করে!

আমরা আকর্ষিত হয়ে যাই।

সেই জিনিসটা ছাড়তে চাই না।


কে চায় না!

মন চায় না।

ফলে আমরা ঘুরে ঘুরে সেখানে চলে আসি।

এই রকম যখন অবস্থা হয়, তখন তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে, আনন্দ পাওয়ার জন্যে তখন বলা হচ্ছে, তোমরা এই কর্ম থেকেই মুক্ত হয়ে যাও।

https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=fvxMkT_rPGxCiQiH


No comments:

Post a Comment

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers