Blog Archive

Sunday, April 12, 2026

Love india - Swami Vivekananda

 স্বামী বিবেকানন্দের "ভারতকে ভালোবাসো"

আলোচনা করছেন - স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজ  


স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন -  যতদিন না ব্রিটিশ ভারতে এসেছে, ততদিন এখানে কেউ না খেয়ে মরে নি।

কেন!

আমাদের শেখানো হয়েছিল - 

"অতিথি দেব ভবঃ"


কেউ যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, আমি যদি নাও খাই। তবু অতিথিকে দিতে হবে। 

আমাদের ছোটবেলায় দেখা যেত, আশেপাশের প্রতিবেশীদের মধ্যেও দেখতাম, দুপুরে খাওয়ার আগে একজন অতিথিকে খাওয়াতেই হবে। অতিথি ধরে আনা হত। কে কোথায় অভুক্ত খোঁজ রাখা হত। সব সময় অতিথি পাওয়া যেত না। তবু এটাই tradition ছিল।

অতিথিকে ভোজন করিয়ে, তবেই গৃহস্থ ভোজন করবে।

এই সব tradition, আচারানুষ্ঠানের কথা সমাজে এখন খুব করে বলতে হবে।

"অতিথি দেব ভবঃ"


আমাদের শিক্ষরা ক্রমে ক্রমে হতাশ হয়ে পরছেন।

কেন!

এই যে মুভি সিনেমাগুলো হচ্ছে, তাতে খলনায়কদের হিরো করে দেখানো হচ্ছে।

কিন্তু সত্যিকারের যারা নায়ক, প্রকৃত অর্থে হিরো। যারা সাধারণ চটি পরে, একটা ছোট্ট ক্লাসরুমে বসে যে অংক শেখাচ্ছেন। এই শিক্ষক, যারা জ্ঞানের বাতি জ্বালাচ্ছেন। তাদের সন্মান করবো না!

 হঠাৎ করে কাউকে বেছে এনে ন্যাশনাল এডওয়ার্ড দিয়ে দিলাম। ওতেই হয়ে গেল!!!

প্রত্যেকটা জনে জনে আমাদের বক্তৃতার মধ্যে দিয়ে, লেখার মধ্যে দিয়ে, ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে সে কথাই আলোচনা করতে হবে। এভাবে সেই শিক্ষকরা আবার অনুপ্রেরণা পাবে। সমাজে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।


আমরা যদি একটু উদ্যোগ নিয়ে ভালো কাজ গুলো করতে পারি। তাহলে দেখা যাবে নিজের ভেতরে একটা আনন্দ, তৃপ্তি ভাব আসছে।

মানুষ তো মরণশীল!

কিন্তু মরবার আগে যদি আমি জানি, আমি কিছু করেছি। যেটা মানুষের জীবনে একটা কাজ আমি করেছি।


সেটি কি!

স্বামী বিবেকানন্দ যেটি চেয়েছিলেন। একজনকে আমি শিক্ষিত করতে পেরেছি। একজনকে আমি আত্মবিশ্বাসী দিতে পেরেছি।


আদি শঙ্করাচার্য আমাদের বেদান্ত শিখিয়েছেন।

সেই বেদান্ত বর্তমান যুগে স্বামী বিবেকানন্দ প্রচার করেছেন।


আদি শঙ্করাচার্য বেদান্তে‌ যে কথা বলেছেন, একদম ঠিক কথাই বলেছেন।

তিনি বলেছেন যে - প্রতিটি জীব হচ্ছেন, সেই অদ্বৈত ব্রহ্ম।

শঙ্করাচার্য বলছেন - আমি অর্ধেক শ্লোকে তোমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছি, কোটি কোটি গ্রন্থ যে কথা বলেছে।

সেটি কি!

ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।


এই আমাদের বেদান্তের জ্ঞান।

সর্বব্যাপী চৈতন্য হচ্ছে সত্য। আর জগৎ যা দেখছি। নাম আর রূপের যে জগৎ, এ মিথ্যা।


এই মিথ্যা মানে চিরন্তন সত্য নয়। এখন আছে বটে, কিন্তু চিরন্তন থাকবে না। তাই মিথ্যা।


ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।

তারপরেই বললেন, প্রত্যেকটি প্রাণীই হচ্ছে সেই ব্রহ্ম। আর কোনো কিচ্ছু না। 

তাই কোথায় ভগবানকে খুঁজবো!

আমিই তো সেই ভগবান!

কোথায় আমি চলেছি শান্তির জন্য! এর কাছে কাঁদছি, ওর কাছে কাঁদছি। আমিই তো সেই শান্তির আকার। আমার মধ্যেই তো সমস্ত আধার।


তাহলে বুঝতে পারছি না কেন!


সেখানেই বিবেকানন্দ এগিয়ে এলেন।

নতুন করে বেদান্ত দিলেন - আত্মবিশ্বাসী হও।


স্বামী বিবেকানন্দের বেদান্ত কি শেখায়!

শেখায় - আত্মবিশ্বাসী হও।


শঙ্করাচার্যের বেদান্ত বলছে - আত্মজ্ঞানী হও।

বিবেকানন্দ সেটাই অনেকটা সহজ করে, আমাদের মত করে বর্তমান যুগে বললেন - আত্মবিশ্বাসী হও।

"ওরে, তোরা নেই নেই করে কি নেই হয়ে যাবি! তাকিয়ে দেখ, ঐ কজন মাত্র ব্রিটিশ। তারা রাজত্ব করছে তোদের উপর!"

 একসাথে যদি ফুৎকার দেওয়া হয়, ফু দেওয়া হয়। সমস্ত ভারতবাসী যদি একবার একজোট হয়ে ফুৎকার দেয়, তাতেই ব্রিটিশ চলে যায়।



স্বামী বিবেকানন্দ বলছেন -

"ওরে, তোরা নেই নেই করে কি নেই হয়ে যাবি!"


তাকিয়ে দেখ ঐ কজন মাত্র ব্রিটিশ। ওদের আত্মবিশ্বাস আছে 'আমি পারবো।' আর তোদের নেই।

"আত্মবিশ্বাসী হও।"

বলছেন - নচিকেতার মত আত্মবিশ্বাসী হতে।

নচিকেতা অসাধারণ কথা বলছেন কঠোর উপনিষদে, সেখানে সে অহংকার করছে না। নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে বলছেন-

বহু না মে মি প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।

কিনসিত যমস্য  করতব্যম!


बहूनामेमि प्रथमः बहूनामेमि मध्यमः। 

किं स्विद्यमस्य कर्तव्यं यन्मयाऽद्य करिष्यति॥


নচিকেতার বাবা লোক ঠকাচ্ছেন। সেই যুগে ও মানুষের মধ্যে খারাপ ভাব ছিল। 

নচিকেতার বাবা, নাম কেনার জন্য সর্ব দান যজ্ঞ করছিলেন।

দানের সময় ভালো গরুগুলো লুকিয়ে রেখে, খারাপ গরুগুলো দান করছিলেন।

নচিকেতা বাড়ির ছেলে জানে যে বাবা ভালো গরু সব দুরে লুকিয়ে রেখেছেন। খারাপ দিয়ে নাম করছেন।

তখন নচিকেতা বুঝলেন, এই খারাপ কর্মের জন্য বাবাকে কষ্ট পেতে হবে।

তখন বাবাকে বাঁচাবার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন। বাবাকে কি ভাবে সেবা করলেন!

নচিকেতা বাবাকে গিয়ে বললেন - আমিও তো তোমার সম্পত্তি। তুমি সব সম্পত্তি দান করছো, আমাকে কাকে দান করলে! 

বারবার এক কথা জিজ্ঞেস করায়, বাবা রেগে বললেন - যমকে দিলাম। যমের কাছে যা।


ঠিক সেই সময় নচিকেতা যেটা ভাবছেন, সেটাই স্বামী বিবেকানন্দ অসাধারণ ভাবে তুলে ধরলেন।

নচিকেতা বললেন -

"বহু না মে প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।"


আমি অনেকের মধ্যে প্রথম।

আমি অনেকের মধ্যে দ্বিতীয়।

কিন্তু কখনোই আমি একদম হেলাফেলা নই।

কিন্তু বাবা কেন মৃত্যুর কাছে পাঠালেন! 

এটাই নচিকেতার আত্মবিশ্বাস।


আমি একাই পারবো, আর কেউ পারবে না।

- এটা অহংকার।


আমি পারি, অন্যরাও যে কেউ পারে।  কিন্তু আমিও অবশ্যই পারিই।


বহু না মে প্রথম।

অনেকর মধ্যে আমি প্রথম।

বহু না মে মধ্যম।


बहूनामेमि प्रथमः बहूनामेमि मध्यमः। 

किं स्विद्यमस्य कर्तव्यं यन्मयाऽद्य करिष्यति॥


“অনেকের মধ্যে আমি প্রথম (শ্রেষ্ঠ), অনেকের মধ্যে আমি মধ্যম।

আজ যম আমার প্রতি করবেন?”


আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।

প্রথমে এখন আমাদের নিজেদের মধ্যে এই ভাব ফিরেয়ে আনতে হবে।

অহংকার কিন্তু কাম্য নয়।


এখন চূড়ান্ত অহংকার এসেছে আমাদের মধ্যে।

কিন্তু সেটা infurity complex হীনমন্যতার চূড়ান্ত। 


এখন ভারতবাসীর মধ্যে চূড়ান্ত অহংকার এসেছে।

কিন্তু সেটা infurity complex এর চূড়ান্ত।


সমানে যে বাজনা বাজায়, বুঝতে হবে ও ব্যাচারী খুব ভয়ে ভয়ে আছে। সে কারণে এই infurity complex হীনমন্যতা ঢাকবার জন্য আমরা এত supiurity অহংকারজনিত শ্রেষ্ঠত্ববোধ দেখাবার চেষ্টা করি। এসবের কোন প্রয়োজন নেই।


আমরা glamour আকর্ষণ দেখাবার চেষ্টা করি। আমরা বিভিন্ন রকমের চেষ্টা করি। আমার সাথে এর পরিচয় আছে, ওর পরিচয় আছে - এসব করি।

কেন করি!


Reflected glory অন্যের গৌরবে নিজের গর্ব বোধ করার চেষ্টা করি।

কিন্তু এসবের কোন প্রয়োজন নেই।


এই ভারতবর্ষকে আবার আমাদের নিয়ে যেতে হবে সেই দুটো পথে যেখানে আমাদের নিয়ে গেছিল 

ভারতের অতীত এবং সেখানে আমাদের অর্থনৈতিক চূড়ান্ত অসাধারণ অবস্থা। তার জন্য সারা পৃথিবী ভারতবর্ষে আসত।


ভারতবর্ষ থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য, অর্থ পাওয়ার জন্যে। 

আর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ছিল - অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি।


এই ভারতবর্ষকে স্বামীজি আবার ভালবাসতে বলেছেন।

আমাদের আজ থেকে চিন্তা হোক, কর্ম হোক, ধ্যান হোক যাতে আমরা ভারতবর্ষকে ভালোবাসতে পারি।


এবং ভারতবর্ষকে ভালোবাসলেই স্বামীজির আশির্বাদ আসবে।


"Love India", জয় স্বামীজি।


#swamilshatmananda 

#Ishatmananda 


https://youtu.be/hKkoNH9nqKY?si=2VQxOgzBtaScDqi1

No comments:

Post a Comment

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers