Blog Archive

Monday, July 29, 2013

কথাচ্ছলে মহাভারত - ৪৬

 

পুত্রোৎপাদনে কুন্তীর প্রতি পান্ডুর অনুমতিঃ 

চিন্তিত পান্ডু কুন্তীকে বলেন দেবতার দ্বারা পুত্র হবে একথা ঋষিরা বলেছেন। মৃগ-ঋষির শাপে আমার আর পুত্র উৎপাদন সম্ভব নয়-এখন কুন্তী চিন্তা করে দেখুন কি উপায় করা যায়। তবেই পিতৃঋণ মুক্ত হওয়া সম্ভব। এছাড়া পূর্বে শাস্ত্রে এমন ঘটনা অনেক আছে। নিজ সন্তান উৎপাদন করলে ভালই, না হলে কোন জন তাতে সাহায্য করতে পারেন। মূল্য দিয়েও পোষ্য পুত্র নেওয়া সম্ভব। আবার পুত্রহীনকে কেউ কন্যা দান করে তার পুত্রের মাধ্যমেও পুত্রবান হওয়া যায়। অথবা স্বামীর আজ্ঞা নিয়ে কেউ নিজের সদৃশ বা উচ্চস্থানে অবস্থিত ব্যক্তির সাহায্যে পুত্রবান হয়। পূর্বে ব্রহ্মার বচনে এমন হয়েছে। সেই মতে রাজা আজ্ঞা করছেন কুন্তী তার বংশের রক্ষা করুন।

কুন্তী একথায় ক্রুদ্ধ হলেন, এমন কুৎসিত বাক্য বলার জন্য ধিক্কার জানালেন। তিনি ধর্মপত্নী, তিনি রাজন ছাড়া আর কাউকে এ নয়নে রাখতে পারেন না। তাছাড়া শ্রেষ্ঠের মাধ্যমে পুত্র উৎপাদন হলেও পৃথিবীতে পান্ডুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ তার কাছে কেউ নেই। 

পূর্বে শোনা গেছে মুনিরা বলেছেন- পৌরব-নন্দন ব্যুষিতাশ্ব নামে এক রাজা ছিলেন। রাজা ধর্মে তৎপর, যজ্ঞ করে দেবতাদের তুষ্ট করলেন। তার দক্ষিণায় মত্ত হল ব্রাহ্মণরা। বাহুবলে রাজা সব কিছু জিতলেন। রাজার পরমা সুন্দরী ভার্য্যা ছিলেন-ভদ্রা। রাজাকে রাণী বহু সেবা করেন সন্তান কামনা করে। কিন্তু কামুক রাজা সঙ্গমে ব্যাধিযুক্ত হন এবং যক্ষারোগে তার মৃত্যু হয়। 

ভদ্রা শোকে মুহ্যমান হন। স্বামী ছাড়া স্ত্রীর প্রাণের কোন মূল্য নেই। ঘর শ্মশান, সকলের গঞ্জনা এবং বিবিধ যন্ত্রণা পেতে হয়। লোকে অনাদর করে। মানুষের মধ্যে স্বামী-সন্তানহীনা নারীকে গনণা করা হয় না- এসব বলতে বলতে ভদ্রা উচ্চস্বরে বিলাপ করতে থাকেন। 

এসময় শব তাকে ডেকে বলেন- ভদ্রা তুমি কেঁদনা। আমার মাধ্যমেই তোমার সন্তান উৎপাদন হবে। শবের বচনে ভদ্রা আস্বস্থ হলেন এবং গৃহে বহু যত্নে শবকে রাখলেন। ঋতুযোগে ভদ্রা শবের সাথে সঙ্গম করলেন। এভাবে তিনি সাতটি সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। শব স্বামীর মাধ্যমে ভদ্রা এভাবে সন্তানের জন্ম দেন। মুনিরা যেহেতু বলেছেন, রাজাও সে ভাবেই কুন্তীকে সন্তান দান করবেন –এই কুন্তীর ইচ্ছা। 

পান্ডু বলেন- মানুষের পক্ষে এরূপ অসম্ভব। দৈববলে শব থেকে সন্তানের উদ্ভব- কিন্তু তার এমন শক্তি নেই। 

এবার পান্ডু বলেন- বহু পূর্বে বর্তমান নিয়ম ছিল না। যার যখন যাকে ইচ্ছে তার সাথে মিলিত হতে পারত। ব্রহ্মার নিয়মে স্ত্রীরা ইচ্ছে মত যার কাছে মন চাইত যেতে পারত। কিন্তু নিয়ম করলেন এক ঋষিপুত্র, তার কথা রাজা শোনালেন। 


উদ্দালক নামে এক মহাতপোধন ছিলেন। শ্বেতকেতু নামে তার এক পুত্র ছিল। পিতা ও মাতার সাথে পুত্র খেলছিল। সে সময় এক মুনি সেখানে আসেন। কামাতুর মুনি তার মাকে কামনা করেন। স্বামী পুত্রকে কোলে করে অন্যস্থানে চলে যান। 

বিস্ময়ের সাথে শিশু পিতার মুখপানে চান এবং ক্রুদ্ধ হয়ে জিজ্ঞাসা করেন এই দুরাচার কে এবং তার জননীকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে। 

শুনে পিতা পুত্রকে শান্ত হতে বলেন। পুরাণে নির্দেশ আছে যার যাকে ইচ্ছে শৃঙ্গারে আমন্ত্রণ করতে পারে-এতে কোন দোষ নেই। 

শুনে পুত্র আরো ক্রুদ্ধ হলেন। এমন কুৎসিত নিয়ম সৃষ্টির জেনে প্রজাপতির উপর কুপিত হলেন। 

তখন তিনি নিয়ম করলেন, পিতাকে বললেন –আজ আমি পরম তপস্বী নিয়ম করছি, নিজ নিজ স্বামী ও স্ত্রী ত্যাগ করে যে জন পর নারী ও পর স্বামীর প্রতি গমন করবে সংসারে সে সকল পাপের পাপী হবে এবং নরক থেকে সে কখনও পার পাবে না। স্ত্রী হয়ে যে স্বামীর বচন না শুনে, স্বামীর বংশ রক্ষা না করে, অবজ্ঞায় স্বামী কার্য্যে অনাদর করে তবে সে নারী চিরকাল নরকে মজবে। 
এইভাবে মুনিপুত্র নিয়ম সৃষ্টি করলেন। ফলে পূর্বের মত পরিবর্তিত হল। 

রাজা আরো পূর্বকথা কুন্তীকে শোনালেন- সূর্যবংশে ছিলেন সৌদাস রাজন। তার মদয়ন্তী নামে রাণী ছিলেন পরমা সুন্দরী। কিন্তু দুজনে সন্তান বিরহে সর্বদা দুখী থাকতেন। রাজা বশিষ্ট মুনির সেবায় রাণীকে নিযুক্ত করেন এবং মুনির ঔরসে তার শ্রেষ্ঠ পুত্র হয়।

রাজা আরো জানালেন তাদের উৎপত্তিও ব্যাসমুনির সাহায্যে, পিতার মৃত্যুর পর হয়েছে। বংশের কারণে এমন পূর্বে অনেকবার হয়েছে। এতে রাণীকে বিস্মিত হতে বারণ করলেন। 

সেই কারণে রাজা আজ রাণীর কাছে প্রার্থণা করছেন তার সন্তান উৎপাদন যেহেতু সম্ভব নয়, কুন্তী আজ নিজেই এর উপায় স্থির করুন। 

রাজার কাতরবাক্য শুনে কুন্তীভোজের কন্যা তার পূর্বকথা পান্ডুকে বললেন। বাল্যকালে তিনি যখন অতিথি সেবায় নিযুক্ত ছিলেন তখন হঠাৎ দুর্বাসা মুনি উপস্থিত হলে তাকে সেবা করে সন্তুষ্ট করেন কুন্তী। তার সেবায় সদয় হয়ে মুনি তাকে এক মন্ত্র দান করেন। এই মন্ত্রবলে তিনি যে দেবতাকে আহ্বান জানাবেন, তিনিই উপস্থিত হবেন এবং যে বর চাইবেন তাই পাবেন। এই আশির্বাদ দিয়ে মুনি দেশান্তরে যান। এখন রাজা আজ্ঞা করলে কুন্তী দেবস্থানে পুত্র কামনা করতে পারেন। রাজাই বলেদিন কোন দেবতাকে তিনি আহ্বান জানাবেন। 

পান্ডু রাজা সব শুনে সুখি হন এবং বলেন আর চিন্তার কোন কারণ নেই। হোম-যজ্ঞ-পূজা করেও যাদের বহু ক্লেশে পাওয়া যায় না, তাদের রাণী এত সহজে পেতে পারেন! রাণীর দেরি করা উচিত নয়। 
দেবতাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হলেন ধর্ম। সব পাপ মুক্ত হয় তার আশ্রয়ে। সেই ধর্ম দেবতাকেই রাণী আহ্বান জানান -এই তিনি চান। 
ধর্মবন্ত, মহাবলবন্ত ও সর্বগুণাধার পুত্র হবে –এই ভেবে পান্ডু কুন্তীকে নির্দেশ দিলেন নিয়ম মেনে ধর্মকে স্মরণ কর। 
তার ব্যাকুলতা দেখে কুন্তী স্বামীর নির্দেশ পালন করলেন। 
স্বামীকে প্রদক্ষিণ করে নমস্কার করলেন।
.......................................

Wednesday, June 12, 2013

কথাচ্ছলে মহাভারত - ৪৫

মৃগরূপী ঋষিকুমারের প্রতি পান্ডুর শরাঘাত ও শতশৃঙ্গ পর্ব্বতে স্থিতি :


পান্ডু 

পান্ডু বনে দুই ভার্যা ও কিছু অনুচর নিয়ে বাস করছিলেন।
রাজা মৃগ অন্বেষণে পাহাড়, পর্বত, মহাবনে ঘোরেন। তার আগমনবার্তা শুনে সিংহ, বাঘ, হাতি, গন্ডার, ভল্লুক, শূকর-সকল প্রাণী বনান্তরে চলে যায়। এ সময় একদিন পান্ডু দেখলেন অনেক হরিণীর দলের মাঝে একটি হরিণ অবস্থান করছে। 

প্রকৃতপক্ষে কিন্দম নামে এক ঋষিকুমার মৃগের রূপ ধরে মৃগীর সাথে শৃঙ্গার করছিলেন। এদিকে পান্ডু মৃগ দেখে শর নিক্ষেপ করলেন। তীক্ষ্ণ শর ঋষিকে ভেদ করল, তিনি মাটিতে পরে ছট্‌ফট্‌ করতে লাগলেন। 


মৃগরূপী ঋষিকুমারের প্রতি পান্ডুর শরাঘাত
পান্ডুর উদ্দ্যেশ্যে তিনি চিৎকার করে বললেন – ধার্মিক হয়ে রাজা তুমি একি ভুল করলে! পরম শত্রুকেও কেউ হিংসা করে রমণের সময় হত্যা করে না। 
পান্ডু বলেন- মৃগ হত্যা ধর্মে আছে, এটি ক্ষত্রিয়ের আচার।
ঋষিকুমার বলেন – মৃগবধ ধর্মে আছে, কিন্তু রমণের সময় বিরোধ করা মহাপাপ কর্ম। কুরুবংশে জন্মে, রতিরসে জ্ঞাত হয়েও রাজা পাপাচার করলেন। তার পাপে সংসার পাপে মজবে।

ঋষি তখন নিজ পরিচয় দিলেন। ঋষিকুমার তিনি, তপের কারণে সকল ত্যাগ করে বনে বাস করেন। মৃগ রূপ ধরে তিনি যখন স্ত্রী-রমণ করছেন সে সময় রাজা তাকে হত্যা করলেন। যেহেতু ব্রাহ্মণ বলে রাজা তাকে চিনতে পারেন নি, তাই ব্রাহ্মণ হত্যার পাপ তার লাগবে না, মৃগ হত্যার দায়ও তার নেই, কিন্তু মৈথুন সময় জীব হত্যার পাপ তার লাগল। 

তাই ঋষি শাপ দিলেন- তিনি যেমন অশুচি দেহে যমালয় যাচ্ছেন, তেমনি রাজাও মৈথুন-সময় মৃত্যুবরণ করবেন, স্বর্গে যাওয়ার শক্তি তারও থাকবে না। তার বাক্য মিথ্যা হওয়ার নয়- এত বাক্য বলতে বলতে ঋষিকুমার প্রাণ ত্যাগ করলেন।

পান্ডু বিষণ্ণ বদনে শোকে আকুল হলেন। মৃত ঋষিকে প্রদক্ষিণ করলেন এবং ভার্যাদের নিয়ে বন্ধুশোকের মত বিলাপ করলেন।
রাজা নিজের নিন্দা শুরু করলেন। কেন তিনি এত বড় কুলে জন্মালেন, তার পাপে কুল পাপে নিমজ্জিত হল। তার মনে পরল তার পিতাও অনাচার করেছিলেন, কামে মত্ত থাকায় অল্পকালে তার মৃত্যু হয়। তার সন্তান বলে তিনিও দুষ্ট, দুরাচার। ধর্ম ভোলার সাজা হল-মৃগরূপী ঋষি হত্যার পাপে মগ্ন হলেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন সংসার-বিষয় ত্যাগ করে তপস্যায় নিজেকে মগ্ন রাখবেন। 

আরো জানালেন তিনি একা পৃথিবী ভ্রমণ করবেন এবং সকল ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। কুন্তী ও মাদ্রীকে হস্তিনানগরে ফিরে যেতে বললেন। সেখানে ভীষ্ম জ্যৈষ্ঠতাত, (কোশল রাজকন্যা)কৈশল্যা জননী অম্বালিকা, সত্যবতী আই, অন্ধ নৃপমনি ধৃতরাষ্ট্র, বিদুর প্রমূখ সুহৃদরা আছেন।

কিন্তু কুন্তী ও মাদ্রী হস্তিনানগরে ফিরতে রাজি হলেন না। তারা কাঁদতে কাঁদতে করুন বচনে অসম্মতি জানালেন এবং সকল স্বর্ণালঙ্কার ত্যাগ করে পতিকেই অনুসরণ করবেন জানালেন। তারাও প্রতিজ্ঞা করলেন ফলাহার গ্রহণ করবেন, পতির পথানুসারে তপস্যা করবেন এবং ইন্দ্রিয়কে দমন করবেন-ধর্মেও আছে সন্ন্যাসীরা পত্নীদের সঙ্গে বাস করতে পারেন। পান্ডু যদি তাদের ত্যাগ করেন তবে তারা এক্ষুনি রাজার সামনে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করবেন। তাদের ব্যাকুল চিত্তের এই আবেদন শুনে রাজা চিন্তিত হলেন, জানালেন অরণ্যে অশেষ ক্লেশ পেতে হবে, গাছের বাকল বসন হবে, সব আভরণ ত্যাগ করে শিরে জটা ধারণ করতে হবে। লোভ, মোহ, কাম, ক্রোধ, অহঙ্কার ত্যাগ করতে হবে। 

রাজার আজ্ঞা শুনে দুই রাণী সকল নির্দেশ সঙ্গে সঙ্গে পালন করলেন। দেখে পান্ডুর হৃদয় ব্যাকুল হল। তিনি নিজেও সব কিছু ত্যাগ করে দান করে দিলেন। অনুচরেদের হস্তিনানগরে ফিরে যেতে বললেন এবং এখানকার সকল ঘটনা গুরুজনদের জানিয়ে মায়েদের ক্রন্দন প্রবোধতে নির্দেশ দিলেন। অনুচরেরা হাহাকার করতে করতে নগরে ফিরল। শোকে সমগ্র নগর স্তব্ধ হল। ধৃতরাষ্ট্র ভাতৃ-দুঃখে ভূমিতে লুটিয়ে পরলেন।

পান্ডু প্রথমে চৈত্ররথ নামে এক বনে উপস্থিত হন, কিন্তু সেখানে গন্ধর্ব ও অপ্সরারা বিহার করছিলেন। তাই তারা বহু নদ, নদী, দেশ পার হয়ে যান নৈমিষ কাননে। হিমালয় আরোহণ করে তারা তিনজন শ্রী গন্ধমাদন পৌঁছলেন। সেখানে ইন্দ্রদ্যুম্ন সরোবরে পূণ্যস্নান করে শতশৃঙ্গ পর্বতে আরোহণ করলেন। এখানে অনেক ঋষি-তপস্বীরা অবস্থান করতেন, পান্ডু এস্থান দর্শন করে সন্তুষ্ট হলেন এবং সেখানে তপস্যা শুরু করলেন। তিনজন সেখানে ঘোর তপস্যা করলেন। ফলমূল আহার করতেন, ধিরে ধিরে তিনজন অস্থিচর্মসার হলেন। ঋষিরা দেখে অবাক হলেন। তাদের তপ সিদ্ধ হল। সেখান থেকে তারা ঋষিদের প্রণাম করে অতি উচ্চ পর্বতে আরোহণ শুরু করলেন স্বর্গের উদ্দেশ্যে। স্বর্গ-যাত্রাপথে তারা দেবতাদের স্থান দর্শন করলেন। নানা রত্নের বিচিত্র যান দেখলেন। গঙ্গার মাঝে প্রবল তরঙ্গের মধ্যে দেবকন্যাদের ক্রীড়ারঙ্গ করতে দেখলেন। এভাবে নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যখন তারা যাত্রা করছেন তখন কিছু ঋষি তাদের ডাকলেন এবং তারা কারা, কেন, কোথায় যাচ্ছেন প্রশ্ন করলেন। 

পান্ডু তখন নিজ পরিচয় জানালেন। ঋষিরা জানালেন সংসারে মানুষ চার ঋণ নিয়ে অবস্থান করে। সেই চার ঋণ মুক্ত না হলে স্বর্গে যেতে পারে না। যজ্ঞ করলে দেবঋণ মুক্ত হবে, ব্রতাচারে মুনিদের তুষবে। পিতৃঋণ মুক্ত হবে পিতৃপিন্ড দিয়ে। মনুষ্য-ঋণ মুক্ত হবে অতিথি সেবা করে। 

পান্ডু বলেন তিনি তিনস্থানে ঋণমুক্ত, কিন্তু নিজ কুকর্মের জন্য পিতৃ-ঋণ মুক্ত হতে পারলেন না। তাই এ শরীর তিনি ত্যাগ করবেন। 

ঋষিরা বলেন -রাজা পন্ডিত সুজন, ধার্মিক ও সর্বশাস্ত্রে বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান। পুত্রহীন মানুষ কখনও স্বর্গে স্থান পান না। দ্বারপালরা দ্বাররক্ষা করছেন, পুত্রহীন জনকে তারা প্রবেশের অনুমতি দেবেন না। সুতরাং রাজা বৃথাই সেখানে যাচ্ছেন। 
ঋষিবাক্য রাজা অবধান করুন। মর্তে জন্মালে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মহাপূণ্যের ফলে মানুষ পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে। সেই মানব পৃথিবীতে বহুদান করে, বহু জপ–তপ করে সংসারে অবস্থান করে। তবু সন্তানহীন হলে কেউ স্বর্গে যেতে পারে না-বেদের বিচারে এই নীতি শাস্ত্রে আছে। স্বর্গে যত দেবসিদ্ধ ঋষি আছেন সকলে মর্তে সন্তান জন্মগ্রহণের পরই স্বর্গবাসী হয়েছেন। 

এত শুনে চিন্তিত পান্ডু তাদের পরামর্শ চাইলেন। ঋষিরা রাজাকে সে স্থানে অবস্থান করতে বললেন এবং আরো জানালেন তারা দিব্যচক্ষে দেখতে পাচ্ছেন দেবতার বরে পান্ডুর মহা বীর্য্যবন্ত পুত্র হবে।

ঋষির আজ্ঞায় পান্ডু শতশৃঙ্গ পর্বতে সস্ত্রীক বসবাস  করলেন।

 .....................................

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers