Blog Archive

Sunday, June 21, 2015

কথাচ্ছলে মহাভারত - ৯১

[পূর্বকথা - দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরে অর্জুন অনায়াসে লক্ষ্যভেদে সক্ষম হলেন .......রাজা দ্রুপদ পুরোহিত পাঠিয়ে পঞ্চপাণ্ডবদের আমন্ত্রণ জানান....যুধিষ্ঠির বলেন মায়ের বচনানুসারে দ্রৌপদীকে পাঁচভাই বিবাহ করতে চান....যুধিষ্ঠিরের কথা শুনে...দ্রুপদরাজ যখন তার কন্যার বিবাহ নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত, সে সময় অন্তর্যামী সর্বজ্ঞ মুনিরা পান্ডবদের বিবাহের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হলেন, তারা দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী হওয়ার কারণ জানালেন....দেবতারা এসে বল্লেন পঞ্চপান্ডবের জন্যেই কৃষ্ণার জন্ম....রাজা দ্রুপদ বিবাহে সম্মত হলেন .... ]

পঞ্চ পান্ডবের সহিত দ্রৌপদীর বিবাহঃ




পাঞ্চাল নরেশ দ্রুপদ বিবাহের আজ্ঞা দিলেন। সকল দেবতারা, মুনিরা সভায় আসতে লাগলেন।

পঞ্চপান্ডবকে পাঁচটি সিংহাসনে বসান হল। প্রতি জনকে হরিদ্রা(হলুদ), পিটালি(জলে গোলা চালগুঁড়ো), গন্ধ(সুগন্ধি) দেওয়া হল। পঞ্চতীর্থের জলে তাদের স্নান করান হল। ইন্দ্রের উপহার দেওয়া বিভূষণে পঞ্চপান্ডব সেজে উঠলেন। সকল মাঙ্গলিক কর্ম সম্পন্ন হলে তারা বিবাহস্থলের রত্নবেদীতে প্রবেশ করলেন।

সুন্দরী দ্রৌপদী পঞ্চপান্ডবকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে সিংহাসনে বসলেন। পঞ্চভায়ের হাতের সাথে তার হস্তবন্ধন হল।
কৃষ্ণার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী যুধিষ্ঠিরের হাতে, তর্জনীতে বৃকোদর ভীম, মধ্যাঙ্গুষ্ঠে পারথ অর্জুন, অনামিকায় নকুল ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলীতে সহদেব বাধা পরলেন।

দুন্দুভি বেজে উঠল। বিদ্যাধরী নাচতে শুরু করল। সকল নরনারী মঙ্গলময় উলুধ্বনি দিতে লাগল।

কৃষ্ণ নারায়ণ আনন্দে পাঞ্চজন্য বাজান। লক্ষ লক্ষ শঙ্খ বাদ্য বাজতে থাকে।
দেবতা-ঋষিরা দ্রৌপদীসহ পঞ্চপান্ডবকে কল্যাণ আশীর্বাদ করতে লাগলেন। দ্বিজ-ব্রাহ্মণদের প্রচুর দক্ষিণা দেওয়া হল।

এভাবে শুভ কার্য সম্পন্ন করে প্রভাতে যে যার রাজ্যে ফিরে গেল। মুনিরা, ব্রাহ্মণরা নিজেদের স্থানে ফিরে গেলেন।

বলরাম ও কৃষ্ণ নারায়ণ দ্বারাবতী(দ্বারকা) ফিরলেন।
যাওয়ার পথে যদুমণি কৃষ্ণের বিদুরের কথা মনে পরল, তিনি নিজেই পঞ্চপান্ডবের সংবাদ তাকে দিতে গেলেন।
কৃষ্ণকে দেখে বিদুর আনন্দাশ্রুতে ভাসলেন। পাদ্য অর্ঘ্য দিয়ে পূজা করে কৃষ্ণকে সিংহাসনে বসালেন।
অভিমান করে বিদুর কৃষ্ণকে বলেন –বার বছর এদিকে আসেন নি। আজ হস্তিাপুরের বড়ই সৌভাগ্য জগন্নাথ স্বয়ং এলেন। পান্ডবদের কোন সংবাদ যদি পেয়ে থাকেন দয়া করে আমায় বলুন। কোন দেশে, কি ভাবে তারা আছেন। তারা বেঁচে গেছেন না মারা গেছেন জানান। কেবল ভরসা আছে তারা ধর্মবন্ত। হায় কুন্তী দেবী, ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরকে না দেখেও আমি এ পাপ শরীর নিয়ে বেঁচে আছি।
এত বলে বিদুর মাটিতে লুটিয়ে পরলেন। কৃষ্ণ দুই হাতে তুলে তাকে বসালেন।
কৃষ্ণ হেসে বিদুরকে বলেন –খুল্লতাত(কাকা), ভাল সংবাদই আমি আপনাকে দিতে এসেছি। পঞ্চপান্ডবের বিবাহ হল ত্রৈলোক্যবাসীর সাক্ষাতে। এক লক্ষ রাজাসহ সকলে সদলবলে এসেছিলেন। গতরাত্রে যাজ্ঞসেনীর বিবাহ হল। পঞ্চপান্ডবের ভার্য্যা হলেন তিনি একাকিনী। আমিও সকুটুম্ব উপস্থিত ছিলাম। শুভ কাজ সম্পন্ন করে এখন দ্বারকায় ফিরছি।
সকল কাহিনী শুনে বিদুর আনন্দিত হয়ে গোবিন্দের চরণ স্পর্ষ করে বলেন –এখানে একথা আর কাউকে এখনি বলবেন না, শ্রীহরি! দুষ্ট লোকে শুনে কুকথা ছরাবে।
হেসে কৃষ্ণ বলেন –কাকে ভয় পাচ্ছেন। এরাই তো পান্ডবদের ভয়ে পালিয়ে এসেছে। এই পৃথিবীতে ভীমার্জুন পরাক্রমী বীর তারা অবহেলায় এক লক্ষ রাজাকে জয় করেছেন।
বিদুরকে প্রবোধ দিয়ে কৃষ্ণ ভগবান দ্বারকায় ফিরে গেলেন। বিদুর ও দ্রুত ধৃতরাষ্ট্রের কাছে গেলেন।
আননদ মনে বিদুর ধৃতরাষ্ট্রকে বলেন –আজ শুভরাত্রি হল, দ্রুপদ নন্দিনী কৃষ্ণা কুরুকুলে এলেন।
শুনে ধৃতরাষ্ট্র আনন্দিত হয়ে বলেন –সব কাজ ফেলে এখনই দুর্যোধনকে আর পুত্রবধূকে ঘরে নিয়ে আস।
বিদুর বলেন –দূর্যোধন নয়, যুধিষ্ঠির দ্রুপদকন্যাকে বরণ করেছেন।
ধৃতরাষ্ট্রের বুকে যেন শেল বিঁধল। তবু তিনি মুখে হাসি এনে কষ্ট করে বলেন –আমার কাছে দুর্যোধনের চেয়েও বড় যুধিষ্ঠির। তার শুভবার্তা শুনে আমার মন আনন্দে পূর্ণ হল। তারা এখন কোথায় আছে, বিদুর! কেইবা তোমায় এ সংবাদ জানাল।
বিদুর বলেন –কৃষ্ণার জন্য স্বয়ম্বরের লক্ষভেদ রাখা হয় যা ইন্দ্রের পুত্র অর্জুন ভেদ করেন। বিদুর রাজার মন বুঝে বুঝে ধিরে ধিরে সকল সংবাদ জানাতে লাগলেন। কৃষ্ণাকে নিয়ে রাজাদের মধ্যে প্রচুর যুদ্ধ হয়। ভীমার্জুন সবাইকে পরাজিত করে। দেবতা ও মুনিরা এক হয়ে পঞ্চপান্ডবের সাথে কৃষ্ণার বিবাহ দিলেন। যদুবংশের সকলকে নিয়ে শ্রীপতি কৃষ্ণ সেই বিবাহে উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্বয়ং এ সংবাদ আমায় দিয়ে দ্বারকায় ফিরে গেলেন।
এত বলে বিদুর নিজের স্থানে ফিরে গেলেন। অধোমুখে অন্ধ রাজা ধ্যান করতে বসলেন।

মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান।
...................................
পঞ্চতীর্থ - কাশীস্থ পাঁচটি পূণ্যস্থান-জ্ঞানবাপী, নন্দিকেশ্বর, তারকেশ্বর, মহাকালেশ্বর ও দন্ডপাণি
......................................

Sunday, May 31, 2015

কথাচ্ছলে মহাভারত - ৯০

[পূর্বকথা - দ্রৌপদীর স্বয়ম্বরে অর্জুন অনায়াসে লক্ষ্যভেদে সক্ষম হলেন .......রাজা দ্রুপদ পুরোহিত পাঠিয়ে পঞ্চপাণ্ডবদের আমন্ত্রণ জানান....যুধিষ্ঠির বলেন মায়ের বচনানুসারে দ্রৌপদীকে পাঁচভাই বিবাহ করতে চান....যুধিষ্ঠিরের কথা শুনে...দ্রুপদরাজ যখন তার কন্যার বিবাহ নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত, সে সময় অন্তর্যামী সর্বজ্ঞ মুনিরা পান্ডবদের বিবাহের উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হলেন, তারা দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী হওয়ার কারণ জানালেন........]

কেতকীর প্রতি সুরভীর শাপঃ



সুরভী(স্বর্গের কামধেনু)

কেতকীর অপূর্ব কাহিনী শুনে দ্রুপদ জিজ্ঞেস করেন –হে তপোধন আরো বলুন –কার কন্যা ছিলেন কেতকী, কেনই বা তিনি তাপসী হলেন। কি হেতুই বা তিনি গঙ্গাতীরে বসে কাঁদছিলেন। সে কাহিনী ও আমায় জানান মহাঋষি।

অগস্ত্য বলেন –শুনুন তার কাহিনী-সত্যযুগে সে দক্ষের কন্যা ছিলেন। বিবাহ না করে সন্ন্যাস ধর্ম নিয়ে হিমালয়ের মন্দিরে শিবের পূজায় নিজেকে নিবেদন করল।

হরের কাছে সে প্রার্থনা করল –তোমার বাসস্থানে আমি তপস্যা করতে চাই। তুমি আজ্ঞা দিলে আমি নির্ভয়ে থাকব।


হর(শিব) বললেন -থাক এই গিরিবরে। আমার কাছে থাক, কোন ভয় নেই। কোন পুরুষ যদি তোমায় কামনা করে তবে দ্রুত তাকে আমার কাছে আনবে।

হরের আশ্বাস পেয়ে কেতকী সেখানে একাসনে তপস্যায় নিযুক্ত হলেন।

দৈবক্রমে একদিন সেখানে সুরভী(স্বর্গের কামধেনু) উপস্থিত হলেন। ঋতুমতী গাভী দেখে পাঁচটি ষন্ড তাকে অনুসরণ করল। সুরভীকে পাওয়ার জন্য ষন্ডে ষন্ডে যুদ্ধ শুরু হল।
ষন্ডের গর্জনে কেতকী ধ্যানভঙ্গ হল। পাঁচটি শক্তিশালী ষন্ডের সাথে সুরভীকে দেখে কেতকী ঈষৎ হাসলেন।

কেতকীর হাসি দেখে সুরভী বুঝলেন উপহাস করা হচ্ছে তাকে, মনে মনে তিনি কষ্ট পেলেন এবং বেগে গিয়ে গোমাতা-সুরভী কেতকীকে শাপ দিলেন –আমি গরু জাতির তাই এতে আমার কোন লজ্জা নেই। নরযোনি হয়ে তোরও পঞ্চস্বামী হবে। বারবার তুই মানবী হয়ে জন্মাবি। দুই জন্ম তোর বৃথা যাবে, হে বিরহিনী! তৃতীয় জন্মে তোর পাঁচ স্বামী হবে। সে জন্মে লক্ষ্মীর অঙ্গে জন্মে মুক্তি পাবি। তোর পঞ্চস্বামী একজন অংশে জন্মাবে, তাদের মধ্যে ভেদাভেদ থাকবে না, সবার মনের মিল থাকবে।

কেতকী যোড়হাতে বলেন –অল্প দোষে এত বড় শাপ দিলেন! কতকালে এই শাপ মোচন হবে। এক অংশে কারা পাঁচজন হবেন। আপনি যখন শাপ দিলেন তখন আমিও অবশ্যই তা ভোগ করবো কিন্তু আমার সব প্রশ্নের উত্তরগুলি দিন।

সুরভী বলেন -তবে শোন। একা ইন্দ্র অংশেতে হবেন পাঁচজন।
বৃত্রাসুর নামে ত্বষ্টামুনির পুত্র ত্রিভুবন জয় করলে ইন্দ্র তাকে বজ্র মেরে হত্যা করেন।
শুনে ত্বষ্টামুনি ক্রোধে আগুন হয়ে বলেন –আজ আমি ইন্দ্রকে মারব। আমার তপস্যাব্রত বৃথা হওয়ার নয়। ইন্দ্রের মত ব্রহ্মবধী বিশ্বাসঘাতক দুরাচারের পাপের ভার ধর্মদেব কি ভাবে বহন করছেন! ত্রিশিরস পুত্র আমার তপস্যা করছিল। অনাহারী, মৌনব্রতী সে কাউকে হিংসাও করত না। এমন পুত্রকেও সেই দুষ্টাচার মেরেছিল। আজ আমি দৃষ্টির দ্বারা তাকে ভস্ম করবই।

এই বলে মুনি দাঁত কড়মড় করতে করতে ধেয়ে চললেন। দেখে সুরাসুর সকলে ভয়ে পালাতে থাকে।

বায়ু দ্রুত ইন্দ্রের কাছে গিয়ে বলেন –ইন্দ্র আপনি নিশ্চিন্তে বসে আছেন! ক্রোধান্বিত ত্বষ্টামুনি আপনাকে হত্যা করতে আসছেন। হাতে হাত কচলে, উরুতে চড় মারতে মারতে তিনি এগিয়ে আসছেন। তার চরণভারে পৃথিবীও কাঁপছে। লম্বা ঘন দাড়ি নাড়তে নাড়তে, মেঘের গর্জনের মত নিশ্বাসের ঝড় তুলতে তুলতে, নেত্রানলে বন পুড়িয়ে, পায়ের চাপে বৃক্ষ ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তিনি এগিয়ে আসছেন। আমার মতে আপনি এখন আর বাহনে না চড়ে এগিয়ে তার হাতেপায়ে ধরে পরুন। নয়ত এখনই পালান।

শুনে ইন্দ্র ভয় পেলেন। মুখে কথা ফুটল না, জড়ের মত দাঁড়িয়ে রইলেন। কোথায় লুকাবেন ভেবে পেলেন না। আদেশ দিলেন যত হাতি ঘোড়া আছে সব নিয়ে আসার জন্য। ঐরাবত প্রমুখ বড় বড় হাতিরা তাকে চতুর্দিকে ঘিরে রাখল।

দূর থেকে ক্রোধে ত্বষ্টামুনিকে দেখে ইন্দ্র প্রচন্ড ভয় পেলেন। কোথায় পালাবেন ভেবে পেলেন না।
কাছেই চারজন দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের নিজের চারঅংশ সমর্পণ করে পঞ্চ আত্মা নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখলেন। সেই চারজন হলেন–ধর্ম, বায়ু ও অশ্বিনীকুমার দুই ভাই।
সে সময় সেখানে ত্বষ্টা মহাঋষি এসে দৃষ্টিমাত্রে পুরন্দর-ইন্দ্রকে ভস্ম করলেন।
ইন্দ্রকে ভস্ম করে তিনি ইন্দ্রের আসনে বসে দেবতাদের বললেন –আজ থেকে আমিই ইন্দ্র।

সুরভী কেতকীকে বলেন –এভাবে ইন্দ্র পাঁচভাগে বিভক্ত হলেন। সেই পাঁচ অংশ থেকেই তোমার পাঁচ স্বামীর জন্ম হবে এবং তাদের স্ত্রী তুমি হবে।
কেতকী বলেন –হে গো জননী, কি ভাবে বজ্রপাণি ইন্দ্র পুনরায় প্রাণ পেলেন, সে কথা জানান।



সুরভী বলেন –ত্বষ্টামুনি ইন্দ্রের সিংহাসন জয় করলে দেবতারা ব্রহ্মার কাছে গিয়ে বলেন–ইন্দ্র ছাড়া আমরা স্বর্গপুরে থাকতে পারছি না। ইন্দ্রের সেই সুন্দর সভা ভেঙ্গে গেছে। অপ্সরা অপ্সরীরা আর নৃত্য-গীত করে না। সব সময় অসুরদের উপদ্রপ চলছে। তাই আমরা থাকতে না পেরে আপনার কাছে চলে এলাম।
সব শুনে ব্রহ্মা নারদকে ত্বষ্টামুনির কাছে দূত করে পাঠালেন।

নারদ গিয়ে ত্বষ্টামুনিকে বলেন –ইন্দ্রত্ব নিয়ে তুমি ইন্দ্রের কাজ করতে চাইলে। কিন্তু ইন্দ্র বিনা রাজ্যে উপদ্রপ বেরে চলেছে।

মুনি বলেন –ইন্দ্রত্বে আমার প্রয়োজন নেই। জপ-তপ-ব্রতই আমার প্রকৃত কর্ম। যার ইচ্ছে এই ইন্দ্রত্ব আমার কাছ থেকে এখন নিয়ে যেতে পারে।

ত্বষ্টার কথা শুনে নারদ বলেন –ইন্দ্রকে সৃষ্টির কারণেই বিধাতা তৈরী করেছিলেন। বিনা ইন্দ্রে ইন্দ্রত্ব কে নেবেন। আপনি যদি ইন্দ্রত্ব না নিতে চান তবে ক্রোধ ত্যাগ করে বজ্রপাণি(ইন্দ্র)কে প্রাণ দান করুন। আমার অনুরোধে বিধাতার সৃষ্টিকে রক্ষা করুন।

শুনে ত্বষ্টামুনি সব বুঝতে পারলেন। ইন্দ্রের ভস্ম তার সামনে আনা হল। শান্ত দৃষ্টিতে ভস্মে দৃষ্টিপাত করে ইন্দ্রকে জীবন্ত করলেন। এইভাবে ইন্দ্র পুনরায় প্রাণ পেলেন।

তোমাকে পুরাণের অনেক কথা বললাম। এই বলে সুরভী নিজের স্থানে চলে গেলেন।

অনেক চিন্তা করে কেতকী ধ্যান করতে বসলেন। একদিন গঙ্গাতীরে বসে মনের দুঃখে যখন কাঁদছিলেন তখন তার অশ্রুবিন্দু সোনার পদ্ম হয়ে ভেসে যাচ্ছিল।

অগস্ত্যমুনি এসব গল্প বলতে বলতে স্বর্গের দুন্দুভি বেজে উঠল।
দেবতারা এসে বলেন –পঞ্চপান্ডবের জন্যেই কৃষ্ণার জন্ম। শীঘ্র শুভকর্ম সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করুন। আকাশ থেকে পুষ্পবৃষ্টি শুরু হল। ইন্দ্র পাঠালেন দিব্য আভরণ(অলঙ্কার)-কেয়ুর(বাহুর), কুন্ডল(কানের), হার, কঙ্কণ, অম্লান অম্বর(বস্ত্র), পারিজাত(সমুদ্রজাত) পুষ্পরাজ(পদ্মরাগমণি)। বিচিত্ররথ সহ সুন্দরী রমণীদল।

সেই সময় বলরাম ও নারায়ণ কৃষ্ণ উপস্থিত হলেন। তাদের সাথে দ্বারকার সকল স্ত্রী ও পুরুষরাও এল।

বিবাহের মঙ্গলদ্রব্য নিয়ে কৃষ্ণের পিতা বসুদেব এলেন। স্ত্রীলোকেরা গরুড়ের পিঠে চড়ে এলেন। কৃষ্ণের মা-দেবকী, বলরামের মা-রোহিনী, বলরামের স্ত্রী রেবতরাজকন্যা রেবতী, কৃষ্ণের স্ত্রীরা-রুক্মিণী, কালিন্দী, সত্যভামা, জাম্বুবতী, লগ্নজিতা, মিত্রবৃন্দা, ভদ্রা, সুলক্ষণা ও আরো সব যদুনারী। তারা সকলে নানা রত্ন-ভূষণ-অলঙ্কার উপহার আনলেন। দশকোটি অশ্ব, দশকোটি রথ, দশকোটি মাতঙ্গ(হাতি), অগণিত বৃষভ(ষাঁড়), উট, খর(গাধা)টানা গাড়ি এলো-যেগুলি ধনে পূর্ণ। এসবই কৃষ্ণ ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরকে উপহার দিলেন। মনে মনে যুধিষ্ঠির অপার আনন্দ লাভ করলেন। পঞ্চপান্ডব মাতুলালয়ের সকল যদুদের প্রণাম জানালেন।
দ্রুপদরাজও সকলকে পূজা করে আদর আপ্যায়ন করলেন।

মহাভারতের কথা অপ্রমিত সুধা, সতত শুনহ নর ভারতের কথা।
...................................

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers