আমি একটা ছোট্ট ঘাস ফুল। আমায় দেখতে কেমন? তা আমি কি ভাবে বলি! তবে আমি ছোট্ট-এই ট্টুকুনি। আমার বন্ধুরা – তোমরা চেননা তাদের! তারা হল – সূর্যশিশির, দুর্ব্বা, শেয়ালকাঁটা- এরা বলে, আমায় দেখতে খুব মিষ্টি। হবেও বা! আমি কি জানি! আমার মা আমায় খুব ভালবাসে। সব সময় আগলে রাখে ঐ দুষ্টু মানুষের ছেলে, গরু, ছাগলের হাত থেকে। ওদের দেখলে আমার ভীষণ ভয় করে। এই বুঝি মারিয়ে দেয় বা চিবিয়ে খায়। তবে আমি খুব সুখী। এই বসন্তে আমার জন্ম। প্রথমেতো ক’দিন কুড়ি ছিলাম, সে সময় কি উত্তেজনা! পৃথিবীটা কেমন? ঘাস কি? মানুষ, গরু, ছাগল-এরা কারা? কত মনে প্রশ্ন! হাওয়া জিনিষটাই বা কেমন? কি সুন্দর বাতাস গায়ে লাগে, তাই কি হাওয়া! তাকে দেখতে কেমন? মনে তখন কত প্রশ্ন সব সময় জাগছে! এখন আমি অ-নে-ক জানি। জানি যে হাওয়াই আমাদের বন্ধু। মাটির তলায় জল থাকে। শিকড় দিয়ে মা তা টেনে আনে পাতায়, তারপর সেখানে হাওয়া থেকে প্রাণ বায়ু নিয়ে রান্না হয়। সেই খাওয়ার খেয়ে আমরা সকলে বাচিঁ। সূর্য আমাদের দেবতা। তাঁর দিকে একদৃষ্টিতে তাকান যায় না। তিনি যতক্ষণ থাকেন, ততক্ষণ শান্তি ও স্বস্তি। তখন আমরা সব বন্ধুরা গল্প করতে২, হাসতে২, একে অপরের গায়ে ঢলে ঢলে পরি। কত যে আমাদের কথা থাকে, সে তোমাদের বলে শেষ করতে পারব না। ওই দেখনা একটা মানুষের ছানা কেমন হাত-পা ছুড়ে কাঁদছে -দেখে তো আমাদের পেটে খিল ধরে যাবার জোগার! ওরা না ভারি দুষ্টু! শুধু২ আমাদের নখ দিয়ে ছেড়ে। আমি তো তখন খুব ভয়ে থাকি। সেদিন তো একজন কলমিকে টেনে ছিড়ল! কলমি কত কাঁদল, ওর মার কি চিৎকার! আমাদের মারাও কাঁদল। আমি, সূর্যশিশির তো ভয়ে নীল হয়ে গেছি। উফঃ কি কষ্ট করেই না কলমিকে ওরা মারল! মানুষ এমনিই নিষ্ঠুর। তবে আমাদের মধ্যে শিয়ালকাঁটা খুব ওস্তাদ। ওকে সবাই সমঝে চলে। সকলে বলতে আবার তোমরা আমাকে বুঝ না! এই যে শিয়ালকাঁটাটিকে দেখছ! ওতো আমায় খুব তোয়াজ করে। কত মিষ্টি২ কথা বলে! আমায় একটুও বকে না। যদিও আমি ওর থেকে একটু দূরে দুরেই থাকি। মা বলেছে তো, তাই। ওর গায়ে যে বড়২ কাঁটা! এমনিতে ও খুব ভাল। কিন্তু কি করি? ওর কাঁটা যে সাংঘাতিক, ছুলেই এক্কেবারে অক্কা! যান তো, এজন্য ওর মনে খুব দুঃখ। আমরা বন্ধুরা যখন হাসাহাসি করি, তখন ও-ও আমাদের সঙ্গে থাকে, কিন্তু ও নিজেই একটু দূরে২ থাকে। ও জানে ওর সংস্পর্ষে আমাদের আঘাত লাগবে। আমি তো ওকে বোঝাই! এর জন্য দুঃখ কর কেন? এটা তো তোমার আত্মরক্ষার উপায়! আমাদের দেখ সকলে দুঃখ দেয়, তবু তুমি আমাদের সর্দার। তোমাকে দুষ্টুরা ভয় পায়।
সূর্যশিশির আছে না! ওর সাথে আমার খুব বন্ধুত্ব। কিন্তু কি হয়! ও বড় নোংরা। কি করে যান! লুকিয়ে২ মাংস খায়। আমি যদিও ঠিক জানিনা কি ভাবে তা ও জোগার করে। তবে একদিন দেখি কি, ভোরের দিকে খুব মুখ নারছে। ওই মানুষদের পান চেবানোর মত। আমি জিজ্ঞেস করি-‘কি খাস, ভাই!’ ওতো প্রথমে খুব হকচকিয়ে গেছে। কিছুতেই বলে না! খালি কথা ঘোরায়! খুব ঢঙি কিনা! ঢঙ খুব জানে! সে যাক্ গে, তারপর কি হল শোন। মাকে গিয়েতো কথাটা বললাম। মা বললে –‘চুপ চুপ, ও সব ঘেন্নার কথা বলিস নে, আমরা উদ্ভিদ জাত! আমাদের কি মাংস সরাসরি খেতে আছে! কিন্তু পাশে দেখ, সূর্যশিশিরদের! কেমন মশা, মাছি গপ্ গপ্ করে ধরে আর গেলে! মাগো ঘেন্নায় মরে যাই! দিলিতো মেজাজটা সকালেই খারাপ করে!’ আমি তো মার রাগ দেখে দূরে সরে আসি। সে দিন তো আমি সূর্যশিশিরের সাথে কথাই বলিনি! শেষে বিকেলে শিশিরের সে কি কান্না! তখন কি আর ভাব না করে পারি! আমি ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
ওদিকে দেখনা, দুব্বাদের অবস্থা। ওনা খুব নিরিহ। সব সময় ভয়ে২ থাকে। যা আমরা বলি তাই শোনে। আমাদের মধ্যে ওদের দুঃখ-কষ্টই সবচেয়ে বেশি। ওই বড়২ গরু-ছাগলরা নাকি দুব্বা খেতে খুব ভালবাসে। দুব্বাদের নাকি ওরা আচারের মত খায়। ভেবে দেখ, কি রুচি! মানুষরাও কম নাকি! ওরা হচ্ছে সবচেয়ে পাজি। ঘ্যাঁচ২ করে দুব্বাদের ছিঁড়বে আর ডলে২ কাটা-ছেড়ায় লাগাবে, এতে নাকি ওদের রোগ সারবে।
আমার আরেক নতুন বন্ধু হয়েছে। নাম শুনবে? খুব মজার নাম –পাথরকুঁচি। হিঃ হিঃ, ভাবছ পাথর কুঁচো২ হয়ে আমাদের সঙ্গে ভাব করছে! তা নয়, তা নয়। পাথরকুঁচি এক রকম মাথা-মোটা গাছ। মানে, মাথা-মোটা তোমাদের লুকিয়ে২ বললাম। আসলে ওদের পাতাগুলো ভিষণ মোটা২। ঐ হেংলু গরুগুলোও খাবে না। তবে ছাগলদের কথা বলা যায় না। ওরা কেমন যেন! পেট মোটা, কালো২, আবার সব কেমন চ্যাটাস্-চ্যাটাস্ করে খায়। তা, পাথরকুঁচিদের কথা বলছিলাম। মা বলে অনেক দিন আগে একটা লোক নাকি এখানে ওদের ফেলে যায়। সে ছিল আজকের পাথরকুঁচির বাবার বাবা। সে তখন খুব অসুস্থ। মায়েরা সব আত্মীয়েরা মিলে তাকে বাঁচায়। তা, পাথরকুঁচিরা খুব কৃতজ্ঞ। ওরা সব সময় সে দিনের কথা স্মরণ করে। ওরা আগে নিজেদের একা, বিদেশি মনে করত। এখনতো আমি পাথরকুঁচি ফুলদের খুব ভালবাসি। ওরানা, একটা ডালে অনেকে এক সাথে ফোটে। ঐ লম্বা-সরু একটা ডাল, তাতে কত ফুল! একটা, দুটো, তিনটে......কুড়িটা পর্যন্ত ফোটে! কি সুন্দর ঘন্টার মত দেখতে! রঙটাও খুব সুন্দর। কেমন কমলা-লাল। সূর্য ডুব্বার সময় আকাশের রঙ যেমন হয়।
দেখ! একজনের কথা বলতে তো ভুলেই যাচ্ছি -লজ্জাবতী- চেহারাটা ভারী মিষ্টি! আমার সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। ও কিন্তু ভীষণ লজ্জা পায়! একেবারে কনে বৌ-এর মত। একটু ছুঁলেই লজ্জা-সরমে ঘোমটা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। আবার দেখ কান্ড, তার কাছে সহজে কাউকে ঘেঁসতেও দেয় না। শরীরে ইয়া বড়২ কাঁটা লাগিয়ে রাখে।
এরা ছাড়াও এই বসন্তে আমার অনেক বড়২ ফুলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। দোপাটি, বেলি, নয়নতারা-আরো কত! বেলির গায়ে কি সুন্দর গন্ধ! আমি আরো অনেক-কে চিনি। গোলাপ, পদ্ম, চন্দ্রমল্লিকা, গন্ধরাজ, রজনীগন্ধা, গ্যাদা- আরো অনেক। এরা যদিও আমার চেয়ে অনেক বড়, অনেক সুন্দরী। গোলাপের নাকি খুব অহংকার! সুন্দরী বলে, তার গায়েও নাকি আত্মরক্ষার জন্য অনেক কাঁটা আছে। তবে যাই বল, মার মুখে শুনেছি, পদ্ম হল ফুলের রাণী! যেমন রূপ, তেমনি মিষ্টি গুণ! খুব খারাপ পরিবেশে, প্রচন্ড কষ্টে সে বড় হয়েছে। তার ব্যবহারও নাকি খুব মোলায়েম। স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী তার উপর অধিষ্ঠান করেন। পদ্মের কি সৌভাগ্য! গন্ধরাজ তার গন্ধের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু দেখতে নাকি তেমন কিছু নয়! আমি রজনীগন্ধাকে দেখেছি। কেমন সুন্দর ছিম্ছাম চেহারা। গন্ধটাও বেশ হালকা আর স্নিগ্ধ। চন্দ্রমল্লিকারো নাকি ভারি বাহার। এরা ছাড়াও কত সুন্দর২ ফুল আছে এই পৃথিবীতে। এত ফুল একসঙ্গে, এক জায়গায়, সবাই মিলে যদি ফুটি-কি ভালই না লাগবে! তাই না? আমার তেমনি খুব ইচ্ছে হয়।
আমি মার কাছে আরো শুনেছি, অন্য অনেক জায়গায় নাকি কাঁটা গাছেও সুন্দর২ ফুল ফোটে। তাদের ভারি কষ্ট। সেখানে নাকি জলের ভারি অভাব। চারদিকে খালি বালি আর বালি। বালি কি তা’তাড়ি গরম হয়! আহাঃ ওদের না জানি কত কষ্ট করতে হয়! বালি যদিও রাতে আবার ঠান্ডা হয়ে যায়। তবু মাটি সব চেয়ে সুখের। মাটিতে আমার মত ফুল ছাড়াও আরো অনেকে থাকে। আমি দেখি লম্বা২ সব প্রাণী কি সুন্দর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়। ওদের নাকি কেঁচো বলে। ইস্, আমিও যদি ওদের মত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারতাম, তবে কি মজাই না হত! প্রথমেই যেতাম ঐ দুরের দীঘিটায়। সেখানে নাকি জলটা টল্টল্ করে। ঐ ভোরে আমার গায়ে যেমন হিমের ফোঁটাটা হিরের মত জ্বল-জ্বল করে, তেমনি। ভাবা যায়! সেখানে নাকি এ রকম লক্ষ২, কোটি২ হিমের ফোঁটারা থাকে। হিমের ফোঁটা এত ঠান্ডা! ভোরে ওর স্পর্ষে আমার মন এত পবিত্র, এত কোমল হয়ে যায়, কি বলব! ওই দিঘীতে তেমন হিমের ফোঁটারা বাস করে!
দিঘী দেখে তারপর যেতাম বনে। সেখানে অনেক উঁচু২ গাছ আছে। উঁচু গাছ বলতে এখানে ঐ আম গাছটাই আছে। ও কেমন যেন, দাদু-দাদু, খুব গম্ভীর! বনের গাছ নাকি ওর চেয়েও উঁচু! শুনেছি তারা এ-ত-ও বড় যে আকাশকেই ঢেকে দেয়! ব্যাপারটা তোমরা ভাব! এই সুন্দর নীল আকাশ! তাকে নাকি মাথা তুলে দেখাই যাবে না! আহাঃ তারা বোধ হয় আকাশকেও ছুঁতে পারে। তার সাথে কি কথাও বলে? আমিও বলি, তবে মনে মনে। আকাশ কত উঁচুতে, সে কি আমার কথা কিছু শোনে, বোঝে! তবে আমার একজন বন্ধু হয়েছে। সে ঐ উঁচু আকাশে উড়ে যায়। দেখতে আমার ভীষণ ভাললাগে। কে বলতো? তার নাম –প্রজাপতি। আমি ওর মাধ্যমে কত খবর আকাশের কাছে পাঠাই! ঐ হাল্কা মেঘগূলোও নাকি প্রজাপতিকে ছুঁয়ে যায়। ভাব একবার! যদিও এজন্য ওকে অনেক উঁচুতে উঠতে হয়। একবার আমার অনুরোধে ও ঐ উপরে উঠে গেল। শেষ পর্যন্ত তো আমি দেখতেই পেলাম না! ছোট হতে২ একদম হাপিস্! তারপর? তারপর কি হল – সে কি দেখি! প্রজাপতি ডিগবাজি খেতে২ নিচে নামছে। নেমেই মার পায়ের কাছে থুপ্ করে পড়ল। কি হাপাচ্ছে! দেখে তো আমি ভয়ই পেয়ে গেছিলাম! সব শুনে মা আমাকে কি বক্লে! তারপর পাতা থেকে টুপ্ করে একফোঁটা জল প্রজাপতির মুখে দিল। তখন সে শান্ত হল। আমার জন্য দেখত কি কষ্টটাই না তাকে পেতে হল! আমার খুব লজ্জাও হচ্ছিল, দুঃখও হচ্ছিল। তারপর শোন না, সুস্থ হয়ে প্রজাপতি কি বলল! বলল যে আকাশ মেঘকে দিয়ে বলে পাঠিয়েছে সে আমায় ভালবাসে, আমাদের সকলকে সে ভালবাসে। তাই না তার বুকে সূর্য ওঠে! মেঘ ভাসে! বৃষ্টি হয়! ঐ বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে দিয়েই আমরা আকাশের ভালবাসা উপলব্ধি করি। আমাকে মা, আকাশ, মেঘ, বৃষ্টি, প্রজাপতি, শিয়ালকাঁটা, সব ফুলেরা – সকলে খুব ভালবাসে। আমিও সক্কলকে খুব ভালবাসি। ভিষণ ভালবাসি এই পৃথিবীকে। এখান থেকে যেতে চাই না। তবু যানি একদিন চলে যাব। সকলে এরা কাঁদবে। মা কাঁদবে। কিন্তু এও জানি আবার আমি ফিরে আসব। এই মায়ের কোলে, এই ভাবেই। আবার তোমাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব হবে। তখন হয়তো ঐ গরু, ছাগলছানা- সকলের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হবে। তারাও আমায় ভালবাসবে! মানুষের সাথেও ভাব হবে। তারাও আমায় আদর করবে! তাই না! তোমরা কি বল!
Blog Archive
Monday, June 29, 2009
Saturday, June 27, 2009
জন্মদিনে চিড়িয়াখানায়
মনু আজ চিড়িয়াখানায় যাবে। তাই খুব ব্যস্ত। মা কেবল বলছে চারটি বাজতে এখন ঢের দেরি। কিন্তু মনু কি তা শোনে! সে এখনি জামা-কাপড় পরে তৈরী। কিন্তু বাবাটা যে কি! এখনি দু’টো বেজে গেল, কখন যে আসবে তার ঠিক নেই! মনু বার২ করে বলে দিয়েছে দু’টোর মধ্যে দোকান বন্ধ করে চলে আসতে, তাও আসে না! বাবা আসবে, খাবে, তৈরী হবে...তারপর না যাওয়া! উফ্, মনু যে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। টিম্পিকেও তৈরী থাকতে বলেছে। টিম্পি, মনু, রুমা আর তপু বাবার সাথে চিড়িয়াখানায় যাবে। আজ মনুর জন্মদিন। চিড়িয়াখানা থেকে ঘুরে এসে সন্ধেবেলা সে কেক কাটবে। আজ সকাল থেকে মনু পড়তেই বসেনি, তার জন্য কেউ বকেও নি। ঘুম থেকে উঠেই আজ সে দাদু, দিদা, বাবা, মাকে প্রণাম করেছে। দিদু সকালেই একটা সুন্দর পেন তাকে দিয়েছে। মনু এখনও পেনসিলেই লেখে, তবে আজ পেনে লিখে দেখবে। কিন্তু এখনও বাবা আসেনা কেন? যাবে নাকি একবার তপুর বাড়ি! মা কি ছাড়বে? আজ মা একটুও বকেনি তাকে। ঐ সাইকেলে আওয়াজ হল, বাবা এলো। আঃ কি মজা! মনু দৌড়ে গেল বাবার কাছে। বাবা কি যেন একটা মাকে দিয়ে দিল। মনু ঠিক দেখে নিয়েছে। নিশ্চয়ই এটা তার! খুব ইচ্ছে করছে বাবা কি এনেছে দেখতে। কিন্তু নাঃ, সন্ধেবেলা যখন পাবে তখনই দেখবে মনু। ‘ও বাবা, তাড়াতাড়ি তৈরী হও! দেখ তিনটে বাজে। কখন বেরবে?’ বাবা হেসে খেতে বসলেন। মনুকেও কাছে টেনে নিলেন।
এখন ঠিক চারটে বাজে। মনু, টিম্পি, তপু আর রুমা বাবার সাথে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। আজ ট্যাক্সি করে সবাই চিড়িয়াখানা যাবে। মনু আর ওর বন্ধুদের খুব মজা। বাবা ঐ ট্যাক্সি ডাকছে। সকলে ট্যাক্সিতে উঠল। বাবা সামনে। পিছনে বন্ধুদের সাথে মনু। একটা জানলার দিকে মনু, আজ তার জন্মদিন। আর একটাতে টিম্পি, কারণ সে সব চেয়ে বড় কিনা! তাই এ ব্যবস্থা। ট্যাক্সিকাকু দরজা দুটো লক্ করে দিল। এবার তারা সোজা চিড়িয়াখানায়! ‘ট্যাক্সিকাকু, খুব জোড়ে ট্যাক্সি চালাবে কিন্তু!’ রুমা বলে উঠল। তপুরাও হ্যাঁ২ করে উঠল। রাস্তার গাড়িগুলো পাশ দিয়ে সাঁ-সাঁ করে সরে যাচ্ছে।
এখন মনুরা চিড়িয়াখানায়। ওরা বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে। উঃ, কি গন্ধরে বাবা, টেঁকাই দায়!-ভাবল মনু। বাঘটার দিকে তাকিয়ে মনুর খুব কষ্ট হল। আহা, আজ মনুর জন্মদিন, আজ তো সকলের খুশি থাকা উচিত। অথচ দেখ বাঘটার কি কষ্ট! একটা খাঁচায় ওকে পুরে সবাই মজা দেখছে। চোখ দু’টো ওর কি করুন! মনু ভাবছে-‘আমি যদি এরকম একটা ছোট্ট খাঁচায় বন্ধ থাকতাম দিন-রাত! তপু, রুমাদের সাথে খেলতে পারতাম না, কোথাও যেতে পারতাম না, গল্পের বই পড়তে পেতাম না-উঃ, কি কষ্টটাই না হত! আহা, না জানি বাঘটারও কত কষ্ট! দুঃখে ও কেমন করে হাই তুলছে দেখ! ওর তো কিছুই করার নেই। তাই অমন দুঃখ দুঃখ মুখ করে আমায় দেখছে। ওর বোধ হয় ওর মা-বাবা-দিদা-দাদু-বন্ধুদের কথা মনে পরছে।’ রুমা বলল-‘এই মনু কি এত দেখছিস? অত কাছে যাস না, বাঘদাদা খেয়ে ফেলবে যে! আয় ও দিকে যাই বাঁদর দেখব।’ ওরা সবাই বাঁদরের খাঁচার দিকে চলল। বাবা সবার হাতে পপ্কনের প্যাকেট দিয়েছে। ওই তো বাঁদরের খাঁচা। আরেঃ, এখানে অনেক বাঁদর এক সাথে থাকে। এমা, একটা আবার কট্টুকুনি! মার কোলে বসে আছে। ওর নাম কি? এরা তো দেখে মনে হচ্ছে বেশ সুখি। আহা, বাড়ির সকলে এক সাথে আচ্ছে কিনা! তাই দুঃখটাও একটু কম। ঐ দেখ একটা বাঁদর কি সুন্দর কলা খাচ্ছে। ইসঃ, এটা আবার দাঁত খেঁচায়! এ নিশ্চয়ই ভিষণ দুষ্টু। টিম্পি পাখি দেখবে বলে বায়না ধরল। একটু দূরে ময়ূরের খাঁচা। বাবার পাশে একজন কি সুন্দর ময়ূরকে খাওয়াচ্ছে! মনুরও ইচ্ছে হল ময়ূরকে খাওয়াবে। সে ময়ূরকে নিজের পপকন থেকে একটা২ করে খাঁচার জালে ধরছে আর ময়ূরটা কি সুন্দর টেনে নিচ্ছে। তপু নিজেরটা সব খেয়ে নিয়ে এখন হা করে দেখছে। পাশেই রাজহাঁসের খাঁচা। প্যাঁক২ করে ডাকছে। ‘কি বিচ্ছিরি ডাকেরে বাবা!’- রুমা বলল। টিম্পি অমনি বলে উঠল-‘কোথায় বিচ্ছিরি!’ মনু ওদের ও খাওয়াতে গেল। বাবা বলল-‘ওরা কিন্তু কামড়ে দেয়’। কিন্তু আজতো মনুর জন্মদিন আজ কি কখন কেউ মনুকে কামড়ায়! আহা, ওদের কি খিদেই না পেয়েছে! তপু হঠাৎ বলে উঠল ও খরগোস দেখবে। বাবা আবার একজনকে জিজ্ঞেস করে তাদের খরগোসদের কাছে নিয়ে এলো। একটা ছোট্ট খরগোস ঠিক মনুর কাছে এসে দু’পায়ে উঠে দাঁড়াল। যেন মনুকে বলছে-‘মনু, জন্মদিনে আমায় খাওয়াবে না!’ মনু অমনি বাবার কাছে আরেকটা প্যাকেট চেয়ে আনল। বাবা বলল ‘আর কেন! চল সবাই বাইরে গিয়ে খাব।’ কিন্তু মনু কি ঐ ছোট্ট খরগোস বন্ধুকে না খাইয়ে যেতে পারে! আহাঃ, ওর পাশে একটা কানা খরগোস। ওর ও বোধ হয় খিদে পেয়েছে। ওরে, বাবাঃ সব খরগোস দেখছি মনুর কাছ থেকেই খাবে ঠিক করেছে। মনুর খুব ভাল লাগছে। আজ ওর কত বন্ধু হয়ে গেল। রুমা, টিম্পি, তপু-এমন কি বাবাও খরগোসদের খাওয়াছে।
দেখতে২ সন্ধে হয়ে এলো, এবার বাড়ি ফিরতে হবে। চিড়িয়াখানার এত বন্ধুদের ছেরে চলে যেতে হবে ভেবে মনুর মনটা খারাপ হয়ে গেল। দিনটা যদি আরো বড় হত! আরো ঘোরা যেত, আরো কত জনের সাথে বন্ধুত্ব হত! বাড়িতে যদিও মা, দাদু, দিদা-মনুর জন্য আপেক্ষা করছে। বাইরের ঘরটা নিশ্চয়ই এতক্ষণে সাজান হয়ে গেছে! নাঃ, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতেই হবে। চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়ার সময় মনু সব পশু বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল-‘আবার আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসব।’ ওরা সকলে নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বসল।
এখন ঠিক চারটে বাজে। মনু, টিম্পি, তপু আর রুমা বাবার সাথে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। আজ ট্যাক্সি করে সবাই চিড়িয়াখানা যাবে। মনু আর ওর বন্ধুদের খুব মজা। বাবা ঐ ট্যাক্সি ডাকছে। সকলে ট্যাক্সিতে উঠল। বাবা সামনে। পিছনে বন্ধুদের সাথে মনু। একটা জানলার দিকে মনু, আজ তার জন্মদিন। আর একটাতে টিম্পি, কারণ সে সব চেয়ে বড় কিনা! তাই এ ব্যবস্থা। ট্যাক্সিকাকু দরজা দুটো লক্ করে দিল। এবার তারা সোজা চিড়িয়াখানায়! ‘ট্যাক্সিকাকু, খুব জোড়ে ট্যাক্সি চালাবে কিন্তু!’ রুমা বলে উঠল। তপুরাও হ্যাঁ২ করে উঠল। রাস্তার গাড়িগুলো পাশ দিয়ে সাঁ-সাঁ করে সরে যাচ্ছে।
এখন মনুরা চিড়িয়াখানায়। ওরা বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে। উঃ, কি গন্ধরে বাবা, টেঁকাই দায়!-ভাবল মনু। বাঘটার দিকে তাকিয়ে মনুর খুব কষ্ট হল। আহা, আজ মনুর জন্মদিন, আজ তো সকলের খুশি থাকা উচিত। অথচ দেখ বাঘটার কি কষ্ট! একটা খাঁচায় ওকে পুরে সবাই মজা দেখছে। চোখ দু’টো ওর কি করুন! মনু ভাবছে-‘আমি যদি এরকম একটা ছোট্ট খাঁচায় বন্ধ থাকতাম দিন-রাত! তপু, রুমাদের সাথে খেলতে পারতাম না, কোথাও যেতে পারতাম না, গল্পের বই পড়তে পেতাম না-উঃ, কি কষ্টটাই না হত! আহা, না জানি বাঘটারও কত কষ্ট! দুঃখে ও কেমন করে হাই তুলছে দেখ! ওর তো কিছুই করার নেই। তাই অমন দুঃখ দুঃখ মুখ করে আমায় দেখছে। ওর বোধ হয় ওর মা-বাবা-দিদা-দাদু-বন্ধুদের কথা মনে পরছে।’ রুমা বলল-‘এই মনু কি এত দেখছিস? অত কাছে যাস না, বাঘদাদা খেয়ে ফেলবে যে! আয় ও দিকে যাই বাঁদর দেখব।’ ওরা সবাই বাঁদরের খাঁচার দিকে চলল। বাবা সবার হাতে পপ্কনের প্যাকেট দিয়েছে। ওই তো বাঁদরের খাঁচা। আরেঃ, এখানে অনেক বাঁদর এক সাথে থাকে। এমা, একটা আবার কট্টুকুনি! মার কোলে বসে আছে। ওর নাম কি? এরা তো দেখে মনে হচ্ছে বেশ সুখি। আহা, বাড়ির সকলে এক সাথে আচ্ছে কিনা! তাই দুঃখটাও একটু কম। ঐ দেখ একটা বাঁদর কি সুন্দর কলা খাচ্ছে। ইসঃ, এটা আবার দাঁত খেঁচায়! এ নিশ্চয়ই ভিষণ দুষ্টু। টিম্পি পাখি দেখবে বলে বায়না ধরল। একটু দূরে ময়ূরের খাঁচা। বাবার পাশে একজন কি সুন্দর ময়ূরকে খাওয়াচ্ছে! মনুরও ইচ্ছে হল ময়ূরকে খাওয়াবে। সে ময়ূরকে নিজের পপকন থেকে একটা২ করে খাঁচার জালে ধরছে আর ময়ূরটা কি সুন্দর টেনে নিচ্ছে। তপু নিজেরটা সব খেয়ে নিয়ে এখন হা করে দেখছে। পাশেই রাজহাঁসের খাঁচা। প্যাঁক২ করে ডাকছে। ‘কি বিচ্ছিরি ডাকেরে বাবা!’- রুমা বলল। টিম্পি অমনি বলে উঠল-‘কোথায় বিচ্ছিরি!’ মনু ওদের ও খাওয়াতে গেল। বাবা বলল-‘ওরা কিন্তু কামড়ে দেয়’। কিন্তু আজতো মনুর জন্মদিন আজ কি কখন কেউ মনুকে কামড়ায়! আহা, ওদের কি খিদেই না পেয়েছে! তপু হঠাৎ বলে উঠল ও খরগোস দেখবে। বাবা আবার একজনকে জিজ্ঞেস করে তাদের খরগোসদের কাছে নিয়ে এলো। একটা ছোট্ট খরগোস ঠিক মনুর কাছে এসে দু’পায়ে উঠে দাঁড়াল। যেন মনুকে বলছে-‘মনু, জন্মদিনে আমায় খাওয়াবে না!’ মনু অমনি বাবার কাছে আরেকটা প্যাকেট চেয়ে আনল। বাবা বলল ‘আর কেন! চল সবাই বাইরে গিয়ে খাব।’ কিন্তু মনু কি ঐ ছোট্ট খরগোস বন্ধুকে না খাইয়ে যেতে পারে! আহাঃ, ওর পাশে একটা কানা খরগোস। ওর ও বোধ হয় খিদে পেয়েছে। ওরে, বাবাঃ সব খরগোস দেখছি মনুর কাছ থেকেই খাবে ঠিক করেছে। মনুর খুব ভাল লাগছে। আজ ওর কত বন্ধু হয়ে গেল। রুমা, টিম্পি, তপু-এমন কি বাবাও খরগোসদের খাওয়াছে।
দেখতে২ সন্ধে হয়ে এলো, এবার বাড়ি ফিরতে হবে। চিড়িয়াখানার এত বন্ধুদের ছেরে চলে যেতে হবে ভেবে মনুর মনটা খারাপ হয়ে গেল। দিনটা যদি আরো বড় হত! আরো ঘোরা যেত, আরো কত জনের সাথে বন্ধুত্ব হত! বাড়িতে যদিও মা, দাদু, দিদা-মনুর জন্য আপেক্ষা করছে। বাইরের ঘরটা নিশ্চয়ই এতক্ষণে সাজান হয়ে গেছে! নাঃ, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতেই হবে। চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়ার সময় মনু সব পশু বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলল-‘আবার আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসব।’ ওরা সকলে নতুন বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বসল।
Subscribe to:
Posts (Atom)
