Blog Archive

Sunday, September 6, 2015

কথাচ্ছলে মহাভারত - ১০৩

[পূর্বকথা - পারিজাত হরণের কথা...নারদ পারিজাতপুষ্প কৃষ্ণকে দিলে তিনি তা স্ত্রী রুক্মিণীকে পরিয়ে দেন... সে কথা শুনে সত্যভামার অভিমান হয়...তিনি আহার নিদ্রা ত্যাগ করেন, কৃষ্ণ এসে তার মানভঞ্জন করেন এবং পারিজাত বৃক্ষ উপহারের আঙ্গিকার করেন...শ্রীকৃষ্ণের সুরপুরী গমন করেন...শ্রীকৃষ্ণের সাথে ইন্দ্রের সাঙ্ঘাতিক যুদ্ধ শুরু হয়...মহাদেবের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণ ইন্দ্রকে সম্মান দেখালে ইন্দ্র পারিজাত কৃষ্ণকে দান করেন ...কিন্তু শচীর হাসি সত্যভামাকে ক্রোধী করে...কৃষ্ণ পুনরায় ইন্দ্রের সাথে যুদ্ধ করতে চান... গড়ুরের ইন্দ্রকে সত্যভামার কাছে নিয়ে আসেন...] 



সত্যভামার প্রতি ইন্দ্রের স্তবঃ
সতী সত্যভামার সামনে শিরে যোড়হাত করে প্রণাম করেন দেবরাজ ইন্দ্র। সুরপতি অষ্টাঙ্গ পৃথিবীতে লুটিয়ে স্তব করতে থাকেন। স্বর্গের অন্যান্য দেবতারাও তাকে অনুসরণ করেন। 
সকলে স্তব করে বলতে থাকেন –হে দেবী, তুমি লক্ষ্মী- সরস্বতী-রতি-সতী-অরুন্ধতী-পার্বতী-সাবিত্রী সকল দেবের মাতা। তুমি অধঃ[পাতাল]-ক্ষিতি[পৃথিবী]-স্বর্গ। তুমিই চতুর্বর্গের[ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ] দাতা। সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় বিধাতা। অনাদি পুরুষ প্রিয়া, কে জানে তোমার ক্রিয়া। মায়ায় মনুষ্য দেহ ধারণ করলে। তুমি বিধাতার ধাতা, আমাদের সবার অন্নদাতা। আমি তোমার কি বর্ণনা দিব। 
বেদপতি ব্রহ্মা যা করতে পারেন নই, পঞ্চানন শিবও পারলেন না-তাই তুমি করে দেখালে। 
তুমিই আমায় সর্বস্ব দিয়েছ তাই আমার গর্ব হল, তোমার চরণ ভুললাম। এবার কৃপা কর। 
তুমি দেবী বুদ্ধিরূপা, সুমতি –কুমতি প্রদায়িনী। তুমি শূণ্য-জল-স্থল, পৃথিবী পর্বতানল। তুমিই সব গৃহে জননী-রুপিনী। 
তোমার পদে আমি শরণ নিলাম। আমার অপরাধ ক্ষমা কর। এ অজ্ঞানের দুর্মতি দুর কর। সম্পদে মত্ত হয়ে সব কথা না জেনে নিজের ঈশ্বরকেই চিনতে পারিনি। 


এই বলে সুরপতি ইন্দ্র আমার ভূমিতে লুটিয়ে প্রলেন। তার কেশপাশ ধূলায় ধূসর। কিরীট(মুকুট), কুন্ডল হার, ছত্রদন্ড, অলঙ্কার সব ধুলোয় লুটাতে থাকে। ধূলিতে তনু লুটিয়ে প্রায় ইন্দ্রের চোখে ধূলি ঢুকে যায়, তিনি চখে আর দেখতে পান না। বারবার ক্ষমা চাইতে থাকেন। 

এতসব দেখে সতী সত্যভামার মন আদ্র হল। 
তিনি খগেশ্বরকে বলেন –ইন্দ্রকে উঠান। 
মন্দাকিনীর জল দিয়ে চক্ষু ধুয়ে দিলে দেবরাজের চোখ নির্মল হবে। শুনে সতীর বাণী সকলে মন্দাকিনীর জলে শ্রীবাসব ইন্দ্রকে স্নান করালেন। সহস্রলোচনের চক্ষু নির্মল হল। 
তিনি সবার আশীর্বাদ নিয়ে ঐরাবতে আরোহণ করে স্বর্গে গেলেন। 



নারদের সাথে পারিজাত পুষ্প নিয়ে যদুরায় কৃষ্ণও দ্বারকায় চললেন। 

মহাভারতের কথা শ্রবণ করলে সকল ব্যথার বিনাশ হয়, অধর্ম সব নাশ হয়। 
কমলাকান্তের পুত্র কাশীরাম দাস যিনি সৎ সজ্জনের প্রিয়, তিনি এটি রচনা করেছেন।
........................... 


সত্যভামার ব্রতারম্ভঃ 

দ্বারকায় সত্যভামার গৃহের দ্বারে পুষ্পরাজ পারিজাত বৃক্ষ রোপণ করা হল। নানা মূল্যবান রত্নে তাকে সাজিয়ে তোলা হল। দেখে মনে হল শত শত রবি শশি যেন শোভা পাচ্ছে। পৃথিবী জুড়ে তার দীপ্তি আভা সৌরভ ছড়াতে লাগল। ঘরের সামনে চাঁদোয়া বেঁধে কৃষ্ণসহ সকলে পারিজাত তলে বিলাস করেন। 

সে সময় নারদমুনি সেখানে উপস্থিত হলেন। সত্যভামাকে দেখে তিনি তার বিস্তর স্তব করতে লাগলেন। 

নারদ বলেন –দেবী, আপনার সমান কেউ নেই, কোন দিন হবেও না। দেবের দুর্লভ যে পারিজাত পুষ্প তা স্বয়ং জগন্নাথ আপনার দুয়ারে স্থাপন করলেন। এখন দেবী এর যে কাজ তা আপনি করুন। অবহেলা করবেন না। 
আপনাকে ব্রতপালন করতে হবে। এই ব্রত পালন করলে আপনিই গোবিন্দের প্রধান সোহাগিনী হবেন। জন্ম জন্ম গোবিন্দ আপনাকে নিয়ে বিহার করবেন। ব্রহ্মান্ড দানের ফল পায় এই ব্রতে। জগতে আপনার যশ হবে। 
এ ব্রত করেছিলেন পুলোমাদৈত্যের কন্যা পৌলোমী(শচী)। তাই তিনি ইন্দ্রের সোহাগী, ইন্দ্রের ইন্দ্রাণী। 
পর্বতের কন্যাও পূর্বে এই ব্রত করে শিবের অর্ধাঙ্গ পেয়ে মহেশ্বরী হলেন। 
আর একজন এ ব্রত করেন, তিনি হলেন স্বাহা দেবী-অগ্নির গৃহিনী। যার ফলে তিনি অগ্নির সোহাগিনী। 

সব শুনে সত্যভামা নারদ মুনির চরণ ধরে বলেন –প্রভু, আমাকেও এখনি এই ব্রত করান। 

নারদ বলেন –তবে কৃষ্ণের অনুমতি নিন। যদিও শ্রীকৃষ্ণ কেবল আপনার স্বামী নন। আপনি যানেন না দেবী এ ব্রতের বিধান খুব কঠিন। বৃক্ষে বেঁধে স্বামীকে দান করতে হবে। এতে কি অন্য স্ত্রীরা মত দেবেন! 

সত্যভামা বলেন –এমন কেন বলছেন, মুনিবর! আমার বিরোধিতা করে, কোন সতিনীর এত সাহস! আমি গোবিন্দকে দান করব। যা বিধি আছে সব পালন করব। কৃষ্ণকে অবশ্যই জিজ্ঞেস করব, এতে কোন সংশয় নেই। 

নারদ বলেন –তবে আর বিলম্ব করে কি কাজ! শীঘ্রই চলুন ব্রত আরম্ভ করুন। এক লক্ষ ধেনু(গরু) ও লক্ষ পৌটি ধান্য চাই। দক্ষিণা হিসাবে স্বর্ণ দিতে হবে লক্ষ কোটি। ষোড়শ বিধানে বসনভূষণ দান করতে হবে, অশ্ব-রথ-গজ-বৃষ যত রত্ন যানে। 

নারদের বাক্য মত সব আয়োজন করা হল। শুভদিন দেখে ব্রত আরম্ভ হল। 
সতী সত্যভামা গোবিন্দকে একান্তে ডেকে সকল সমাচার দিলেন। হেসে কৃষ্ণ সতীকে সম্মতি জানান। 
পৃথিবীর সকল মুনি ও ব্রাহ্মণদের আমন্ত্রণ করা হল। বিধি মত ব্রতের সজ্জা সাজান হল। নারস মুনি ব্রতের পুরোহিত হয়ে বসলেন। পারিজাত বৃক্ষে হৃষীকেশ কৃষ্ণকে বেঁধে সত্যভামা বসলেন হাতে তিল কুশ নিয়ে। 
রুক্মিণী প্রমুখ ষোল সহস্র রমণী সকলে অভিমানে নিরবে কাঁদতে থাকেন। 
সত্যভামা সকলকে সাক্ষী রেখে জগন্নাথকে ব্রতের কারণে দান করলেন। 


“স্বস্তি” বলে নারদমুনিও হাতে হাত দিলেন। 

মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কাশীদাস কহেন সদা শুনেন পূণ্যবান। 
..................................

Monday, August 31, 2015

কথাচ্ছলে মহাভারত - ১০২

[পূর্বকথা - পারিজাত হরণের কথা...নারদ পারিজাতপুষ্প কৃষ্ণকে দিলে তিনি তা স্ত্রী রুক্মিণীকে পরিয়ে দেন... সে কথা শুনে সত্যভামার অভিমান হয়...তিনি আহার নিদ্রা ত্যাগ করেন, কৃষ্ণ এসে তার মানভঞ্জন করেন এবং পারিজাত বৃক্ষ উপহারের আঙ্গিকার করেন...শ্রীকৃষ্ণের সুরপুরী গমন করেন...শ্রীকৃষ্ণের সাথে ইন্দ্রের সাঙ্ঘাতিক যুদ্ধ শুরু হয়...মহাদেবের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণ ইন্দ্রকে সম্মান দেখালে ইন্দ্র পারিজাত কৃষ্ণকে দান করেন ...] 

ইন্দ্রকে লইয়া কৃষ্ণের নিকটে গরুড়ের গমন ও কৃষ্ণের ক্রোধ নিবারণঃ 


শচীর হাসি দেখে সতী সত্যভামার অভিমান হল। 
তিনি গোবিন্দকে করজোড়ে বলেন –তুমি যখন ইন্দ্রের চরণ স্পর্শ করে তাকে প্রণাম করলে তখন শচী হেসে আমায় তা দেখায়। সে যা প্রতিজ্ঞা করেছিল তা সম্পূর্ণ হল। তুমি আমায় বলেছিলে আজ তাদের গর্ব চূর্ণ করবে। কি কারণে তুমি এমন করলে! পারিজাত না পেলে না হয় নাই পেতাম! 

হেসে প্রভু কমললোচন বলেন –সতী একারণে কেন তুমি দুঃখ করছ! তিন ভুবনে যত প্রাণী দেখছ, তাদের থেকে আমি ভিন্ন নই। সবার মাঝেই আমার অবস্থান। আজ আমি নিজেই নিজেকে নমস্কার করলাম না হয়! এতে তোমার লজ্জা হচ্ছে কেন! 

সতী সত্যভামা বলেন –আপনি শচীর প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করলেন, কিন্তু নিজের প্রতিজ্ঞা বিস্মৃত হলেন! আপনিই তো বলেছিলেন সহস্রলোচন ইন্দ্রের গর্ব খর্ব করবেন। ক্ষত্রিয়ের ধর্ম প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা। বিশেষ করে শচীর হাসি দেখে পর্যন্ত আমার সর্ব অঙ্গ জ্বলে যাচ্ছে। 

কৃষ্ণ বলেন –আমার প্রতিজ্ঞা স্থির নয়। দেবী, ভক্তদের আমি আমার শরীর দান করেছি। শিবের বাক্য লঙ্ঘন করতে না পেরে ইন্দ্রকে ক্ষমা করলাম। 

সতী বলেন –তার মানে আমি আপনার ভক্ত নই, অভক্ত! সে কারনেই আমার শরীর ক্রোধে দ্বগ্ধ হচ্ছে! 

গোবিন্দ বলেন –দেবী, ক্রোধ ত্যাগ কর। ঠিক আছে এখনি ইন্দ্রকে এনে তোমার চরণে লোটাব। 


সত্যভামাকে আশ্বাস দিয়ে দৈবকীতনয় কৃষ্ণ মৃত্যুঞ্জয় শিবকে ডেকে বলেন –আপনার বচন আমি লঙ্ঘন করতে পারিনি তাই ইন্দ্রকে তখন মান্য করেছি। তবে ইন্দ্রের সাথে আমার কিবা সম্বন্ধ! পৃথিবীতে তো আমি কতবার কত অবতার রূপে এসেছি। 
হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু দুইভাই প্রতাপে সকল ভুবন জয় করেছিল। তাদের বরাহ ও নরসিংহ অবতার রূপে হত্যা করে নিষ্কন্টক স্বর্গের অধিকার দিলাম। 
ধর্মবলে বলিরাজ ত্রিভুবন নিলে আমি দুই পদে ব্রহ্মান্ড ব্যাপিয়ে তাকে বামনাবতারে ছলনা করে পাতালে রাখলাম। পুনরায় নিষ্কন্টক করে স্বর্গ আখন্ডল ইন্দ্রকে দিলাম। 
কুম্ভকর্ণ ছিল রাক্ষসরাজ রাবণের প্রিয়। সে ধার্মিক, সাহসী ও বুদ্ধিবলে ব্রহ্মাকে সন্তুষ্ট করে স্বর্গের অধিকার নিতে পারে যেনে ইন্দ্র হিংসা করে দেবী সরস্বতীর সাহায্যে কুম্ভকর্ণকে বিহ্বল করায়। ফলে ব্রহ্মা বর দিতে এলে কুম্ভকর্ণ “ইন্দ্রাসন” এর পরিবর্তে “নিদ্রাসন” চেয়ে বসে। সকলে যানে সে ইন্দ্রের কি অবস্থা করেছিল। তাদেরও আমি রাম অবতারে হত্যা করে নিষ্কন্টক স্বর্গ ইন্দ্রকে দান করি। 
এখন আপনিই বলুন শিব আমার সাথে তার কিসের সম্বন্ধ! তাকে আমার এসব কথা জানাবেন হে সদানন্দ শিব। বলবেন সে যেন ভূমিতে এসে সতীর চরণে লুটিয়ে প্রণাম করে। তবেই আমি তার অপরাধ মার্জনা করব। না হলে এখনই অন্য কাউকে স্বর্গপুরী দান করব। 

মহেশ্বর শিব সব কথা ইন্দ্রকে জানালেন। কিন্তু সব শুনে ইন্দ্র ক্রোধে কাঁপতে লাগলেন। 
শিব কৃষ্ণকে গিয়ে দুঃখের সাথে জানালেন ইন্দ্র তার শর্তে রাজি নন। 

কৃষ্ণ তখন গরুড়কে ডেকে বলেন –হে বীর খগেশ্বর, এখনই পাতাকে গিয়ে বিরোচনের পুত্র বলিকে [হিরণ্যকশিপু->প্রহ্লাদ->বিরোচন->বলি] নিয়ে এস। আজই আমি তাকে স্বর্গের অধিপতি করব। সাধুসেবার গুণে সে আমার ভক্ত। 

একথা শুনে গরুড়, যিনি ইন্দ্রের প্রতি অতিশয় প্রীত, তিনি বন্ধুর কারণে গোবিন্দের চরণে পরে সবিনয়ে বলেন –অদিতিকে(ইন্দ্রের মা) যে সত্য বচন করেছিলেন, তা ভুলে গেলেন, হে চক্রধর! এখন বলিকে স্বর্গের অধিকারী করতে চান! তাকে কেন ডাকছেন, হরি! ইন্দ্রকে কেন ছাড়ছেন! দেখি সে কেমন আপনাকে না মান্য করে! 

এই বলে খগেশ্বর নিজেই স্বর্গে চললেন। 
ইন্দ্রকে গিয়ে গরুড় বলেন –হে পুরন্দর, কেন অজ্ঞানের মত আচরণ করছ! যার জন্য এই সৃষ্টির সৃজন, যিনি তোমাকে এই স্বর্গের অধিকার দিলেন তাঁর আজ্ঞা অবহেলা করছ কেন! দেখেও কি দেখতে পাচ্ছ না! ইন্দ্রপদে এত মজেছ! এস বন্ধু আমি তোমার দোষ ক্ষমা করাব। সতী সত্যভামার চরণতলে তোমায় ফেলব। আমার কথাতেও যদি তুমি না সচেতন হও তবে যেন বলি রাজা এই ইন্দ্রপদ পাবে। তোমার উপর ক্রোধ আরো বারবে। 

খগেন্দ্রের(পাখির রাজা-গরুড়) কথা শুনে মেঘবান ইন্দ্র চিন্তিত হলেন। 
অনুশোচনা করে ইন্দ্র গরুড়কে বলেন –বুঝেছি ভগবান আমার উপর ক্রোধ করেছেন। ত্রৈলোকের নাথ প্রভু দেব নারায়ণ। অজ্ঞান হয়ে তার সাথে যুদ্ধ করেছি। সখা গরুড়, বিশ্বাস করুন আমি না জেনে গোবিন্দের ক্রোধ বাড়িয়ে ফেলেছি। 

খগেশ্বর বলেন –সখা আমার কথা শোন। তুমি আমার সাথে এসে চক্রপাণির ক্রোধ শান্ত কর। এস আমি তোমার দোষ ক্ষমা করাব। নারায়ণের সামনে তোমায় নিয়ে যাব। 


এত বলে গরুড় ইন্দ্রের হাত ধরে তাকে একেবারে সতী সত্যভামার চরণতলে এনে ফেললেন। ভূমিতে পরে সহস্রলোচন ধুলিতে চোখ ধাঁধিয়ে কিছু দেখতে পেলেন না। চারদিকে হাতড়াতে থাকেন। 

মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস কহেন, শুনেন পূণ্যবান। 
...................................

Run To You - Live at Slane Castle, Ireland.mp3

Followers